নিজস্ব প্রতিবেদক (আসাদুজ্জামান আসাদ): সামাজিক কটূক্তি, সমালোচনা ও শারীরিক গঠন নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্যকে পেছনে ফেলে নৃত্যের মাধ্যমে নিজের পরিচয় গড়ে তুলেছেন তরুণ নৃত্যশিল্পী বর্ষা ঘোষ। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে নৃত্যে হাতেখড়ি নেওয়া বর্ষার পেরিয়েছে প্রায় ১৬ বছরের পথচলা। বুলবুল ললিতকলা একাডেমির বুকশিবাজার শাখায় নৃত্যচর্চা শুরু করেন তিনি। পরবর্তীতে নৃত্যগুরু জাবেদ হোসেনের কাছে প্রশিক্ষণ নিয়ে জুনিয়র ও সিনিয়র কোর্স সম্পন্ন করেন এবং জুনিয়র কোর্সে ফার্স্ট ডিভিশন অর্জন করেন। বিভিন্ন নৃত্য প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থানসহ নানা সাফল্যের পাশাপাশি টেলিভিশন ও বিভিন্ন বড় আয়োজনে নৃত্য পরিবেশন করেছেন তিনি। নৃত্যের পাশাপাশি অভিনয়, আর্ট ও রোভার স্কাউটিংয়ের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন বর্ষা। বর্তমানে শান্ত মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজিতে নৃত্য বিভাগের শিক্ষার্থী এবং বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থার সঙ্গে যুক্ত। নাটক ও থিয়েটারেও কাজ করছেন তিনি। ২০২৫ সালে ‘আলিবাবা এবং চল্লিশ চোর’ নাটকে দস্যু চরিত্রে অভিনয় ও নৃত্য পরিবেশন তার উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতার একটি। বর্তমানে বুলবুল ললিতকলা একাডেমি (বাফা), কেরানীগঞ্জ শাখায় নৃত্যশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বর্ষা। শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা ও পরিবারের সহযোগিতাকে নিজের এগিয়ে যাওয়ার অন্যতম শক্তি মনে করেন তিনি। বর্ষার ভাষায়, “একজন প্রকৃত নৃত্যশিল্পীর পরিচয় কখনো ইঞ্চি বা কেজির মাপে হতে পারে না। নাচ আসে আত্মা থেকে, শরীর শুধু একটি মাধ্যম।”
ভবিষ্যতে সফল নৃত্য গবেষক ও মেন্টর হওয়ার পাশাপাশি নারী-পুরুষ নির্বিশেষে প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি করতে একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন তিনি। তার মতে, মানুষের সমালোচনায় থেমে না গিয়ে নিজের প্রতিভা ও স্বপ্নের প্রতি বিশ্বাস রেখে এগিয়ে যেতে হবে। বর্ষা ঘোষের এই পথচলা তাই শুধু একজন নৃত্যশিল্পীর সাফল্যের গল্প নয়; বরং প্রতিকূলতাকে জয় করে স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যাওয়ার এক অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্ত।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News