তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি: বরগুনার তালতলী উপজেলার শরিকখালী ইউনিয়নের পূর্ব বাদুরগাছা এলাকায় শালিশ অমান্য করে বসতভিটার জমি দখলের অপচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। অভিযোগের বিষয়ে তালতলী থানায় লিখিত আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী জালাল হাওলাদার (৬২)। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১ জুলাই ২০২৬ বিকেল ৫টার দিকে পূর্বনির্ধারিত শালিশ বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও তা ভেঙে দিয়ে নাজির খান, দেলোয়ার খানসহ কয়েকজন জোরপূর্বক বসতভিটার জমি দখলের চেষ্টা করেন। এ সময় তারা জমিতে পিলার স্থাপনেরও চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
জালাল হাওলাদার অভিযোগে উল্লেখ করেন, তিনি প্রায় ২০ বছর ধরে পরিবারসহ ওই জমিতে বসবাস করে আসছেন। দীর্ঘদিন ধরে পার্শ্ববর্তী জমির মালিকরা বিভিন্নভাবে জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন। বিষয়টির সমাধানে স্থানীয়ভাবে শালিশের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অভিযুক্তরা শেষ মুহূর্তে শালিশে অংশ না নিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করেন বলে দাবি তার।জালাল হাওলাদার বলেন, "আমি দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে এই জমিতে বসবাস করছি। শালিশের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তারা শালিশ না মেনে জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা করেছে। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার চাই।"
ভুক্তভোগীর ছেলে বলেন, "ছোটবেলা থেকেই আমরা এই বাড়িতে বসবাস করছি। আমাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে। এরপরও গায়ের জোরে আমাদের বসতবাড়ি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার চাই।" স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, শালিশ বৈঠকের দিন অভিযুক্তরা শালিশ ভেঙে দিয়ে বাড়িতে লোকজন না থাকার সুযোগে জমিতে পিলার পুঁতে দখলের চেষ্টা করেন। এতে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত দেলোয়ার খান বলেন, "জালাল হাওলাদারের বাড়ি আমাদের জায়গার ওপর হয়েছে। আমরা আমিন ডেকে জমির সীমানা নির্ধারণ করেছি। পরবর্তীতে বসে বিষয়টি সমাধান করা হবে।" এ বিষয়ে তালতলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে দ্রুত প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News