স্টাফ রিপোর্টার: হঠাৎ আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় ও ঝড়ো হাওয়ায় বরগুনাসহ দেশের চার জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাতের আকস্মিক এই ঝড়ে শত শত ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে, উপড়ে পড়েছে অসংখ্য গাছপালা এবং বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ায় বহু এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থার সৃষ্টি হয়। কোথাও কৃষকের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, আবার কোথাও ঘর ও দোকানপাটের চাল উড়ে গেছে।
বরগুনার আমতলী-তালতলীতে শতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত
বরগুনার আমতলী ও তালতলী উপজেলায় আকস্মিক ঝড়ে শতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাত প্রায় ১টার দিকে শুরু হওয়া ঝড়ের সঙ্গে বৃষ্টিও ছিল। ঝড়ের তাণ্ডবে বহু কাঁচা ঘরবাড়ি ধসে পড়ে এবং অনেক ঘরের টিনের চালা উড়ে যায়। একই সঙ্গে হাজার হাজার গাছ উপড়ে পড়ে।
আমতলী উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের বৈঠাকাটা, গুলিশাখালী ইউনিয়নের খেকুয়ানি ও গোছখালী, হলদিয়া ইউনিয়নের সোনাউটা, অফিস বাজার ও রাওঘা গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় ৮টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়ে। এতে উপজেলার প্রায় ৬৩ হাজার গ্রাহক রাত ১টা থেকে মঙ্গলবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত প্রায় ১৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন ছিলেন।
তালতলী উপজেলার পল্লী বিদ্যুতের এজিএম মোতাহার হোসেন জানান, ঝড়ে প্রায় ৩১ হাজার গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে দুই উপজেলার বাসিন্দারা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
এদিকে আমতলী পৌর এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় পানি সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়। এতে বাসাবাড়িতে রান্নাবান্নাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে সমস্যা দেখা দেয়। পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা গৃহবধূ তানজিলা বেগম বলেন, “১৫ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ নেই, পানিও নেই। রান্নাবান্না করতে পারিনি।”
আমতলী পল্লী বিদ্যুতের এজিএম মো. কাওছার হোসেন জানান, ঝড়ে ৮টি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। পরে দ্রুত মেরামতের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধারের কাজ করা হয়।
ভোলার ঢালচরে ঘরচাপায় আহত ১০
ভোলার চরফ্যাসন উপজেলার দক্ষিণ উপকূলীয় পর্যটন দ্বীপ ঢালচরে ঝড়ে প্রায় অর্ধশত ঘরবাড়ি ও একটি মৎস্যঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গাছ উপড়ে বসতঘরের ওপর পড়ে প্রায় ১০ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. হাসান বলেন, “রাতে সবাই ঘরে ছিলাম। হঠাৎ ঝড় শুরু হয়ে ঘরের চাল উড়ে যায়। খাট-বিছানাসহ অনেক জিনিসপত্র তছনছ হয়ে যায়।”
পূর্ব ঢালচর এলাকার বাসিন্দা ছালাউদ্দিন জানান, ঝড়ে তাদের ঘর ভেঙে ভিটের বাইরে পড়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করেন।
গোবিন্দগঞ্জে ঝড়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় ঝড়ে চার শতাধিক বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কৃষকের কলা, ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি হেলে পড়ায় কয়েকশ পরিবার দুই দিন ধরে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার ও মঙ্গলবার দুই দিনের ঝড়ো হাওয়া ও শিলাবৃষ্টিতে উপজেলার রাজাহার, কাটাবাড়ী ও সাপমারা ইউনিয়নের বহু ঘরের টিনের চালা উড়ে যায়।
রাজাহার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দিয়েছেন।
কুয়াকাটায় ঝড়ে উড়ে গেল ১৭ দোকান
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের লম্বুর বন এলাকায় ঝড়ে অন্তত ১৭টি ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিধ্বস্ত হয়েছে। এর মধ্যে শুঁটকি, ফিশ ফ্রাই, খাবারের হোটেল ও ঝিনুকের দোকান রয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জেলেপল্লির বেশ কিছু বসতঘর।
স্থানীয়রা জানান,গত সোমবার রাতে তারাবির নামাজের পর হঠাৎ ঝড় শুরু হয়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী তীব্র ঝড়ো হাওয়ায় সৈকতসংলগ্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো লন্ডভন্ড হয়ে যায়।
স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছে। ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও ব্যবসায়ীদের সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News