বরগুনা সদর উপজেলা প্রতিনিধি: বরগুনায় বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সদর উপজেলা শাখার কার্যালয় দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, কার্যালয়ের তালা ভাঙার খবর পেয়ে ৯৯৯ কলের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বরগুনার পুলিশ সুপার মোঃ কুদরত-ই-খুদা বলেন, ভবনের মালিকানা ও কমিটি নিয়ে বিরোধ থাকায় বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে যাচাইয়ের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সদর থানা ও গোয়েন্দা পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মীর মোস্তাফিজুর রহমান লিটন ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোয়াজ্জম হোসেনের কমিটি কেন্দ্র থেকে গত বছরের ৩০ অক্টোবর ২০২৫ অনুমোদন পায়। অন্যদিকে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোঃ সরোয়ার হোসেন মাসুম ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রসুল কুট্রি মৃধার কমিটি ২০ মে ২০২৬ তারিখে অনুমোদিত হয়।
নতুন কমিটি ঘোষণার পর গতকাল একদল শিক্ষক কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। এ সময় লিটন তাদের বিরুদ্ধে তালা ভাঙার অভিযোগ করেন!
এদিকে বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক গোলাম রসুল কুট্টি জানান, অফিসের চাবি শিক্ষকদের কাছেই ছিল। তবে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা নতুন তালা লাগিয়ে দেওয়ায় নিজেদের চাবি কাজ না করায় পরে বাধ্য হয়ে তালা ভেঙে প্রবেশ করা হয়। তিনি লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং তিনি জানিয়েছেন সাংবাদিক এবং স্থানীয় লোকজন তাদের সঙ্গে ছিলেন। লাইভ ক্যামেরা চালু রেখে তারা ভিতরে প্রবেশ করেন এবং সার্বক্ষণিক তাদের সঙ্গে লোকজন ছিল সেখানে লুকোচুরির কিছুই ছিল না।
এদিকে সহকারী শিক্ষক মীর মোস্তাফিজুর রহমান লিটনকে ঘিরে গত বছরের আলোচিত বিতর্কও নতুন করে সামনে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে প্রধান শিক্ষকদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে। পরে ৪ ডিসেম্বর সদর উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। পরবর্তীতে অভিযোগটি সম্পর্কে আর কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এছাড়াও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ন্যাটিজেনরা লিটনের বিগত দিনে আওয়ামী লীগের এবং মুজিব কোট পরিহিত ছবি বিভিন্ন জায়গায় শেয়ার করতে দেখা যায় এবং বিদ্রুপ কমেন্ট করতে থাকেন তারা-

স্থানীয় সূত্রে লিটনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিগত সরকার আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে পদে বহাল থাকা, শিক্ষকদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য এবং বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের-ও অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News