বরগুনা প্রতিনিধি:বরগুনা সদর উপজেলার নিশানবাড়িয়া সড়কের ক্রোক এলাকায় সরকারি সামাজিক বনায়নের গাছ বিক্রিকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বন বিভাগের এক রেঞ্জার ও এক বন প্রহরীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগে সাবেক রেঞ্জার মো. মতিয়ার রহমান (বর্তমানে তালতলী রেঞ্জে কর্মরত) এবং বন প্রহরী জালাল আহমেদকে (বর্তমানে পটুয়াখালীর রাঙাবালীতে কর্মরত) অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগকারী, সামাজিক বনায়নের উপকারভোগীদের সভাপতি মো. জিয়া উদ্দিন পঞ্চায়েত, জেলা প্রশাসক বরাবর দেওয়া লিখিত আবেদনে বিষয়টি তুলে ধরেন।
অভিযোগের বিবরণ:অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ১৯৯৩-৯৪ অর্থবছরে নিশানবাড়িয়া সড়কের ক্রোক স্লুইস থেকে আলোর দোকান এলাকা পর্যন্ত সড়কের পাশে সামাজিক বনায়নের আওতায় গাছ রোপণ করা হয়। দীর্ঘদিন পরিচর্যার পর এসব গাছ পরিপক্ক হলে উপকারভোগীদের না জানিয়ে ২০০৩ সালে রাস্তা প্রশস্তকরণের অজুহাতে কিছু গাছ বিক্রি করা হয়। একইভাবে ২০০৯ সালেও আরও গাছ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, গাছ বিক্রির ক্ষেত্রে সরকারি টেন্ডার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। গাছের প্রকৃত সংখ্যা, বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ এবং লেনদেনে কোনো স্বচ্ছতা ছিল না। ফলে উপকারভোগীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
টাকা না পাওয়ার অভিযোগ: এছাড়া, বরগুনা সদর উপজেলার ৯ নম্বর এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের মনসাতলী গ্রামের সামাজিক বনায়নের গাছ ২০২২ সালে বিক্রি করা হলেও উপকারভোগীরা এখনো তাদের প্রাপ্য অর্থ পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় উপকারভোগী নুরুল ইসলাম বকুল শরীফ বলেন, “এত বছর পার হয়ে গেলেও বনবিভাগ এখনো আমাদের টাকা দেয়নি।”
অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগ: অভিযুক্ত রেঞ্জার মতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে সংরক্ষিত বনের ভেতরে স্থানীয়দের সঙ্গে যোগসাজশ করে গবাদিপশু পালন, বনজ সম্পদ বিক্রি এবং সরকারি দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি করেছেন এলাকাবাসী।
অভিযুক্তদের বক্তব্য মেলেনি!
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি!
বন বিভাগের প্রতিক্রিয়া: এ বিষয়ে পটুয়াখালী বিভাগীয় বন বিভাগ-এর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. মো. জাহিদুর রহমান মিয়া বলেন, অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রমাণ পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি: ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তারা বলেন, সামাজিক বনায়নের মূল উদ্দেশ্যই ছিল স্থানীয় জনগণকে উপকৃত করা, কিন্তু অনিয়মের কারণে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News