বরগুনা প্রতিনিধি: বরগুনা সদর উপজেলার মধ্যবরগুনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ দিন দিন আরও নাজুক হয়ে উঠছে। একদিকে জরাজীর্ণ টিনের ঘরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পাঠদান, অন্যদিকে ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে বিদ্যালয়ের পুরনো ভবনের একটি বিম ভেঙে পড়লে বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পায় শিক্ষার্থীরা। এরপর ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও নতুন ভবন নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে শিক্ষকরা অস্থায়ী টিনের ঝুপড়ি ঘরে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, টিনের জরাজীর্ণ ওই ঘরে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। বর্ষা মৌসুমে ছাদ দিয়ে পানি চুঁইয়ে পড়ে ক্লাসরুম স্যাঁতস্যাঁতে হয়ে যায়। আবার গ্রীষ্মকালে প্রচণ্ড গরমে টিনের ঘরটি অসহনীয় হয়ে ওঠে। এমন প্রতিকূল পরিবেশে ঝুঁকি নিয়েই পাঠদান চালাতে হচ্ছে!
এর মধ্যে নতুন করে যোগ হয়েছে চুরির উৎপাত। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামীমা বেগম জানান, সম্প্রতি দুর্বৃত্তরা বিদ্যালয়ের বৈদ্যুতিক সার্ভিস তার কেটে নিয়ে গেছে। এর আগে একাধিকবার ৯টি বৈদ্যুতিক পাখা ও অসংখ্য বাল্ব চুরি হয়েছে।
তিনি বলেন,
“সকালে বিদ্যালয়ে এসে দেখি বিদ্যুৎ নেই, কিন্তু আশপাশের বাড়িতে বিদ্যুৎ ছিল। পরে খোঁজ নিয়ে দেখি সার্ভিস তার কেটে নিয়ে গেছে। টিন ও কাঠের বেড়া থাকায় চোরেরা সহজেই ভেতরে প্রবেশ করতে পারে।”
প্রধান শিক্ষক আরও জানান, বিষয়টি লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তবে এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, দ্রুত একটি নতুন পাকা ও আধুনিক ভবন নির্মাণ করা হোক। একই সঙ্গে নিরাপত্তা জোরদার করে চুরি প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমন দুরবস্থা শুধু শিক্ষার মানকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, বরং শিশুদের নিরাপত্তাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News