বরগুনা প্রতিনিধি | ২৯ এপ্রিল ২০২৬
বরগুনায় পৃথক স্থানে বজ্রাঘাতে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। একই দিনে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বজ্রপাতের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, এতে অন্তত ১১ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। গত বুধবার (২৯ এপ্রিল) বরগুনা জেলার আমতলী, পাথরঘাটা ও সদর উপজেলায় এসব ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আমতলী উপজেলার পুজাখোলা গ্রামে নুরজামাল নামে এক কৃষক মাঠে মাছ শিকার করতে গিয়ে বজ্রাঘাতে নিহত হন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমতলী ইউএনওর মাধ্যমে নিহতের পরিবারকে তাৎক্ষণিক ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। একই দিনে কলাপাড়া উপজেলার শান্তিপুর এলাকায় আবদুল খালেক হাওলাদার নামে আরেক কৃষক গরু আনতে গিয়ে বজ্রাঘাতে মারা যান।
এছাড়া পাথরঘাটা উপজেলায় গভীর সাগরে মাছ ধরার সময় একটি ট্রলারে বজ্রপাত হলে আল-আমিন নামে এক জেলের মৃত্যু হয় এবং আরও চারজন আহত হন।
অন্যদিকে বরগুনা সদর উপজেলার ফুলঝুড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ক্লাস চলাকালে ভবনের ওপর বজ্রপাত হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। এতে কয়েকজন ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় ক্লিনিক এবং পরে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অসুস্থদের মধ্যে ষষ্ঠ শ্রেণির কারিমা, জান্নাতি, রিয়া মনি, মরিয়ম, সামিরা এবং সপ্তম শ্রেণির ইয়াসমিন ও আমেনা আক্তারসহ আরও কয়েকজন রয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. বশির হোসেন জানান, হঠাৎ বজ্রপাতের বিকট শব্দে শিক্ষার্থীরা ভয় পেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। দ্রুত তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রেজওয়ানূর আলম বলেন, ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং তারা এখন শঙ্কামুক্ত।
বরগুনা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত নুরজামালের পরিবারকে তাৎক্ষনিক ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অসুস্থ শিক্ষার্থীদের সাড়ে ৭ হাজার টাকা করে চিকিৎসা সহায়তা এবং শুকনো খাবার দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলে বজ্রমেঘ সক্রিয় থাকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। বজ্রপাতের ঝুঁকি থাকায় সবাইকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News