বরগুনা প্রতিনিধি: উপকূলীয় জেলা বরগুনায় বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি বছরের একটি বড় সময় পতিত পড়ে থাকে। লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা, সেচসংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এসব জমিতে নিয়মিত চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। তবে পরিকল্পিত উদ্যোগ ও আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে এসব জমিতে একাধিক ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হতে পারে। জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বরগুনায় ৩৩ হাজার ৪০০ হেক্টর সাময়িক পতিত এবং ১ হাজার হেক্টর স্থায়ী পতিত জমি রয়েছে। জেলায় মোট আবাদযোগ্য জমি এক লাখ হেক্টর এবং নেট আবাদি জমি ৮৪ হাজার ৫৭০ হেক্টর। এ ছাড়া ৮ হাজার ৯২০ হেক্টর জমি লবণাক্ততায় আক্রান্ত। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, আমন ধান কাটার পর মুগ, সরিষা, সূর্যমুখী, তিল, চিনাবাদাম ও শীতকালীন সবজি চাষের মাধ্যমে জমির ব্যবহার বাড়ানো সম্ভব। ইতোমধ্যে বরগুনা সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়ন ও তালতলী উপজেলার সওদাগরপাড়া গ্রামে সবজি চাষের সম্প্রসারণ এ সম্ভাবনার প্রমাণ দিয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জেলায় সহস্রাধিক হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী ও সরিষা চাষ হয়েছে।
বরগুনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এস এম বদরুল আলম জানান, জমির উপযোগিতা অনুযায়ী ফসল নির্বাচন, স্বল্পমেয়াদি ও লবণসহিষ্ণু জাতের ব্যবহার, কৃষক প্রশিক্ষণ এবং উন্নত বীজ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে বহুফসলি চাষের সুযোগ বাড়বে। পাশাপাশি পতিত জমি চিহ্নিত করে এলাকাভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ এবং কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা জরুরি। জেলা সচেতন নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক মনির হোসেন কামাল বলেন, পতিত জমি আবাদযোগ্য করা গেলে কৃষকের আয়, গ্রামীণ কর্মসংস্থান ও স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। এ জন্য সহজ শর্তে কৃষিঋণ, সেচ ও পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়ন, খাল পুনঃখনন এবং ফসল সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের সুবিধা বাড়াতে হবে। তবে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, শ্রমিকসংকট, কৃষি উপকরণের সীমাবদ্ধতা, জলাবদ্ধতা ও দুর্যোগের ঝুঁকি কৃষকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এসব সমস্যা মোকাবিলায় ইউনিয়নভিত্তিক জরিপ, বিজ্ঞানভিত্তিক শস্যবিন্যাস, সাশ্রয়ী সেচ এবং কৃষকদের জন্য কার্যকর সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টদের মতে, সব পতিত জমিতে একসঙ্গে তিন ফসল উৎপাদন সম্ভব না হলেও জমির উপযোগিতা অনুযায়ী আবাদ সম্প্রসারণ করা যেতে পারে। সমন্বিত পরিকল্পনা ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে বরগুনার পতিত জমি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News