বরগুনা জেলা প্রতিনিধি: করোনাকালীন ২০২০ সালে বরগুনায় বাল্যবিবাহের যে উদ্বেগজনক চিত্র সামনে এসেছিল,তার ঠিক ছয় বছর পর সেই পরিস্থিতির ব্যাপক পরিবর্তন: একটি জরিপ অনুযায়ী, ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সে মাত্র সাত মাসে বরগুনায় ১ হাজার ৫১২টি বাল্যবিবাহের তথ্য পাওয়া যায়, যা জরিপভুক্ত ২১ জেলার মধ্যে সর্বোচ্চ ছিল। ২০২০ সালের করোনাকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ, পারিবারিক আর্থিক সংকট, সামাজিক চাপ ও কিশোরীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে বাল্যবিবাহের ঝুঁকি বেড়েছিল। এতে অনেক কিশোরীর শিক্ষাজীবন থেমে যায় এবং অল্প বয়সেই তারা সংসারের দায়িত্বে জড়িয়ে পড়ে।
তবে ২০২৪-এর সরকার পরিবর্তনের পর ২০২৬ সালে এসে বরগুনায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসনের ধারাবাহিক তৎপরতা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম যেনো এক নতুন আশার সৃষ্টি করেছে: জেলা প্রশাসক মিজ্ তাছলিমা আক্তার ২০২৫ সালের ১৮ নভেম্বর দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুর পাশাপাশি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ও মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত মাঠপর্যায়ে জনসচেতনতা তৈরিতে ব্যাপক গুরুত্ব দিচ্ছেন। জেলা প্রশাসনের সরকারি তথ্যে ও সংবাদ মাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তাঁর এসব বিষয়ে যথেষ্ট দায়িত্ব পালনের বিষয়টি লক্ষ্য করা যায়। news link-
https://www.dailyasianmirror.com/post/brgunar-prthm-naree-jela-prsask-tachlima-aktar-jnseba-manbikta-oo-unnyn-ogrzatray-prsngsitউল্লেখ্য, এর আগে মিজ্ তাছলিমা আক্তার (১৬৬১৮ বিসিএস)- কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের উপ-সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বরগুনা জেলা ১৯৮৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মহকুমা থেকে জেলায় উন্নীত হয়। তাই জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ মূলত ১৯৮৪ সাল থেকে শুরু হয়েছে। সুতরাং, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা লাভের পর বরগুনা জেলায় সর্বপ্রথম নারী জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ১৯ মে বরগুনা সদর উপজেলার গৌরিচন্না ইউনিয়নে মাদক, যৌতুক, বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিং প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মিজ্ তাছলিমা আক্তার, ২৩ মে আমতলী সদর ইউনিয়নেও একই ধরনের জনসচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মাদক, যৌতুক, বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিং প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয় এবং সেখানেও প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি। শুধু সভা-সমাবেশ নয়, প্রতিনিয়ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের মাধ্যমেও বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করছেন জেলা প্রশাসক মিজ্ তাছলিমা আক্তার। ১১ জুন ২০২৬, বামনা উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনকালে তিনি বাল্যবিবাহ ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, প্রশাসনের এমন ধারাবাহিক প্রচার-প্রচারণা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। তবে ২০২০ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত বাল্যবিবাহের হার ঠিক কত শতাংশ কমেছে, তা নিশ্চিত করতে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের হালনাগাদ সরকারি পরিসংখ্যান প্রকাশ করা প্রয়োজন। বরগুনাবাসীর প্রত্যাশা, জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে চলমান এ উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হবে। জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক, ধর্মীয় নেতা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে যে সামাজিক আন্দোলন গড়ে উঠছে, তা ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে। বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরিতে ধারাবাহিক উদ্যোগ নেওয়ায় জেলা প্রশাসক মিজ্ তাছলিমা আক্তার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। তাঁদের প্রত্যাশা—অল্প বয়সে বিয়ে নয়, বরগুনার প্রতিটি কিশোরীর শিক্ষা, নিরাপত্তা ও স্বপ্নপূরণের অধিকার নিশ্চিত হোক।
২০২০ সালের উদ্বেগজনক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ২০২৬-এর বরগুনা এগিয়ে যাক বাল্যবিবাহমুক্ত সমাজের পথে—এটাই এখন সকলের প্রত্যাশা।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News