আমতলী প্রতিনিধি: মে-২০২৬ মাসের পারফরমেন্স মূল্যায়নের ভিত্তিতে বরগুনা জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ হিসেবে আমতলী থানার ওসি আবু সাহাদাৎ মোঃ হাচনাইন পারভেজকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধ দমনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বরগুনা জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন আমতলী থানার ওসি আবু সাহাদাৎ মোঃ হাচনাইন পারভেজ। গত ১৫ জুন ২০২৬ তারিখে জেলা পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় মে-২০২৬ মাসের সামগ্রিক পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে তাকে এই বিশেষ সম্মানে ভূষিত করা হয়। মূলত প্রশাসনিক দক্ষতা, অপরাধ দমন এবং থানা এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণেই তাকে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট প্রদান করা হয়েছে। আমতলী থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই অর্জন কেবল একজন কর্মকর্তার নয়, বরং পুরো থানার সকল সদস্যের সমন্বিত প্রচেষ্টার ফসল, যা ভবিষ্যতে জনসেবার মান আরও উন্নত করতে অনুপ্রেরণা যোগাবে। থানা এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি মাদক নির্মূল এবং ওয়ারেন্ট তামিল করার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও আমতলী থানা অভাবনীয় সাফল্য প্রদর্শন করেছে। এই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় শ্রেষ্ঠ মাদক উদ্ধারকারী অফিসার হিসেবে আমতলী থানার এসআই মোহাম্মদ ওয়ালী উল্লাহ এবং শ্রেষ্ঠ ওয়ারেন্ট তামিলকারী অফিসার হিসেবে এএসআই মোঃ জসিম উদ্দিন সিকদার ও এএসআই মোঃ মাইনুল ইসলামকে বিশেষ পুরষ্কারে ভূষিত করা হয়েছে। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ওসির কঠোর নজরদারি এবং মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সক্রিয় ভূমিকার কারণেই আমতলীতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের হার উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। বিশেষ করে মাদক বিরোধী অভিযানের তীব্রতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিন ধরে পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় আনার মাধ্যমে থানা পুলিশ যে সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে, তা স্থানীয় জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
পুরস্কার প্রাপ্তির পর আমতলী থানার ওসি আবু সাহাদাৎ মোঃ হাচনাইন পারভেজ জানান যে, পুলিশের প্রতিটি সদস্যের পেশাদারিত্ব এবং দায়িত্ববোধের কারণেই এমন সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও বলেন যে, এই স্বীকৃতি তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে এবং আগামী দিনগুলোতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখবেন। জেলা পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও আমতলী থানার এই পারফরম্যান্সকে অন্যান্য থানার জন্য একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এমন কর্মতৎপরতা অব্যাহত থাকলে বরগুনা জেলার সার্বিক অপরাধ পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে এবং পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।
আমতলী থানার এই সামগ্রিক সাফল্য বরগুনা জেলা পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার পাশাপাশি প্রশাসনিক স্বচ্ছতার একটি নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে। অপরাধ নির্মূলে আমতলী থানার এই সমন্বিত উদ্যোগ এবং কর্মকর্তাদের এমন সক্রিয় অংশগ্রহণ ভবিষ্যতে অন্যান্য থানার জন্য একটি মডেল হিসেবে কাজ করবে। জননিরাপত্তা রক্ষায় এই ধরণের উদ্দীপনামূলক স্বীকৃতি মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের নৈতিক মনোবল বৃদ্ধি করে, যা পরিশেষে একটি অপরাধমুক্ত নিরাপদ সমাজ গঠনে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News