আমতলী প্রতিনিধি: বরগুনার আমতলী উপজেলায় অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় খাল খনন প্রকল্পে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, এক বছর আগে খনন করা খালের অংশ পুনরায় খনন দেখিয়ে অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। পাশাপাশি শ্রমিকদের পুরো মজুরি পরিশোধ না করেই প্রায় ৩৭ লাখ ৫০ হাজার ৫৪০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বরাদ্দে কুকুয়া ইউনিয়নের পশ্চিম কেওয়াবুনিয়া খালের তিন কিলোমিটার এবং হলদিয়া ইউনিয়নের পশুরবুনিয়া খালের দুই কিলোমিটার খননে মোট ১ কোটি ২৮ লাখ ৮২ হাজার ৮৩৭ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পে ৩৯৭ জন শ্রমিকের কাজ করার কথা থাকলেও স্থানীয়দের দাবি, বাস্তবে কাজ করেছেন ১৫৯ জন। তাঁদের মধ্যে অনেকে ছয় দিন কাজ করেও তিন দিনের বা তারও কম মজুরি পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। পশুরবুনিয়া প্রকল্পের সভাপতি কালু মৃধার দাবি, ১১৯ জন শ্রমিক এখনো মজুরি পাননি। কেওয়াবুনিয়া প্রকল্পের সভাপতি জহির উদ্দিন মাতুবরও দাবি করেছেন, প্রকল্পের কার্যক্রম ইউএনও ও পিআইওর নির্দেশনায় পরিচালিত হয়েছে। ভেকু মেশিনের মালিকেরাও তাঁদের পাওনা অর্থ পুরোপুরি না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। এ ছাড়া কেওয়াবুনিয়া খালের পাড়ে গাছ লাগানোর কথা থাকলেও তা করা হয়নি এবং আগের বছর রাস্তা নির্মাণের সময় খনন করা অংশ পুনরায় খনন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তবে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রুনু বেগম দাবি করেছেন, শ্রমিকদের সমুদয় টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। সদ্য বিদায়ী ইউএনও মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী এ বিষয়ে পিআইওর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। শ্রমিকদের মজুরি বকেয়া রেখে অর্থ ফেরতের অভিযোগ জানতে চাইলে তিনি কোনো বক্তব্য না দিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের বরাদ্দ, কাজের পরিমাণ, শ্রমিকের সংখ্যা, মজুরি পরিশোধ এবং সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া অর্থের পূর্ণাঙ্গ হিসাব তদন্ত করা হোক। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News