বরগুনা সদর উপজেলা প্রতিনিধি: নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা রোধে বরগুনা জেলাজুড়ে শান্তি মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বিএনপি। সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বরগুনা জেলাসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলাগুলোতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের কর্মীদের সম্ভাব্য নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কায় রাজপথে নেমেছে বিএনপি। গতকাল সন্ধ্যায় বরগুনা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে দলীয় কার্যালয়ে এক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। একই সময়ে জেলার বামনা, পাথরঘাটা ও বেতাগী উপজেলাতেও সমান্তরালভাবে শান্তি মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। মূলত রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে কোনো অপশক্তি যেন জনজীবনে আতঙ্ক ছড়াতে না পারে, সেই লক্ষ্যেই কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই শান্তি মিছিলের আয়োজন করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান মোড় অতিক্রম করার সময় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা ও সতর্কতার বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সমাবেশে উপস্থিত ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন যে, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পর্দার আড়ালে থেকে সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষতি করার পায়তারা করছে। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব হুমায়ুন হাসান শাহিন, জেলা যুবদলের সভাপতি জাহিদ হোসেন মোল্লা এবং ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সানাউল্লা সানি ও সেক্রেটারি রনিসহ অন্যান্য নেতারা অভিযোগ করে বলেন, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট করার জন্য একটি বিশেষ গোষ্ঠী এখনো গোপনে সক্রিয় রয়েছে। তারা বলেন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সম্পদ বিনষ্ট করার যে ইতিহাস আওয়ামী লীগের রয়েছে, তা থেকে শিক্ষা নিয়েই আমরা রাজপথে সজাগ রয়েছি। সাধারণ মানুষ যাতে কোনোভাবেই আতঙ্কিত না হয় এবং রাষ্ট্রবিরোধী কোনো ষড়যন্ত্র যেন সফল হতে না পারে, সেজন্য আমরা প্রতিটি ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে নজরদারি বৃদ্ধি করেছি। মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার মাধ্যমে দূরবর্তী এলাকাগুলোতেও আমরা শান্তির বার্তা পৌঁছে দিয়েছি যাতে কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হতে না পারে।
রাজনৈতিক অস্থিরতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললে স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানান, প্রশাসনের পাশাপাশি দলীয়ভাবে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন তাদের নৈতিক দায়িত্ব। তারা দাবি করেন, পুলিশি নিরাপত্তার পাশাপাশি রাজনৈতিক দল হিসেবে জননিরাপত্তা রক্ষা করা তাদের অন্যতম লক্ষ্য। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা বা গাফিলতির সুযোগে কোনো বিশৃঙ্খলা যেন মাথাচাড়া দিতে না পারে, সেজন্যই দলীয়ভাবে এই কঠোর নজরদারি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মিছিল ও সমাবেশের পরবর্তী ধাপে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নেতাকর্মীদের টহল অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানা গেলেও, বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের নিজস্ব গোয়েন্দা নজরদারি এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করছেন।
পরিবহন ও জনজীবন স্বাভাবিক রাখতে বিএনপির এই শান্তি মিছিল ও সতর্ক অবস্থান দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার এই সময়ে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদি রাজনৈতিক দলগুলো এভাবেই জনগণের পাশে থেকে বিশৃঙ্খলা প্রতিহত করতে পারে, তবেই জনমনে আস্থা ফিরবে এবং অশুভ শক্তির উত্থান রোধ করা সম্ভব হবে। বরগুনার সাধারণ মানুষ এখন কেবল শান্তি ও স্থিতিশীলতা চায়, যেখানে কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা নাশকতার ভয় থাকবে না। ভবিষ্যতের যেকোনো ধরনের অরাজকতা এড়াতে বিএনপির এই কঠোর অবস্থান স্থানীয় রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যার প্রভাব আগামী দিনগুলোতে বরগুনার রাজপথে স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News