পাথরঘাটা প্রতিনিধি (আরিফুল ইসলাম) : বরগুনার পাথরঘাটা পৌর শহরের ব্যবসায়ী রাধেশ্যাম কর্মকার তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা মামলা, ভুয়া লিগ্যাল নোটিশ ও চেক জালিয়াতির মাধ্যমে হয়রানির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
সোমবার (২০ জুলাই) সকাল ১১টায় পাথরঘাটা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন। লিখিত বক্তব্যে রাধেশ্যাম কর্মকার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করে আসলেও পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার সঞ্জিব কর্মকার পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন আদালতে মিথ্যা মামলা ও লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়ে তাকে হয়রানি করে আসছেন। তিনি জানান, ২০১৭ সালে সঞ্জিব কর্মকার তার বিরুদ্ধে ৮ লাখ ১০ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। জবাবে তিনি আইনজীবীর মাধ্যমে জানান যে, কথিত জমি বিক্রির কোনো বায়নাপত্র, দলিল, খতিয়ান, দাগ নম্বর কিংবা ব্যাংক লেনদেনের প্রমাণ নেই। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে মঠবাড়িয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়। তদন্ত শেষে গোয়েন্দা পুলিশের প্রতিবেদনে অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ না পাওয়ায় তিনি অব্যাহতি পান বলে দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে যশোরের এক আইনজীবীর নাম ব্যবহার করে ডাকযোগে দুটি খাকি খাম পাঠানো হয়। খাম খুলে তিনি ভেতরে লিগ্যাল নোটিশের পরিবর্তে সাদা কাগজ পান। পরে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানান। এ সংক্রান্ত কল রেকর্ড তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
রাধেশ্যাম কর্মকার অভিযোগ করেন, ২০২৬ সালে তার বিরুদ্ধে ৩০ লাখ টাকার একটি চেক ডিজঅনার মামলা করা হয়। মামলায় উল্লেখিত ব্যাংক হিসাব ও চেক নম্বরের সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্যমতে, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কোনো শাখায় তার নামে কোনো হিসাব নেই। একইভাবে সুনামগঞ্জ থেকে পাঠানো পৃথক দুটি লিগ্যাল নোটিশেও ভিন্ন অঙ্কের টাকা দাবি করা হলেও একই ব্যাংক হিসাব ও চেক নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে, যা বিভ্রান্তিকর ও অসত্য।
তিনি জানান, সর্বশেষ গত ১৬ জুলাই ডাকযোগে আরও দুটি খাকি খাম পান। পূর্ব অভিজ্ঞতার কারণে স্থানীয় সাংবাদিক, ডাক বিভাগের কর্মচারী ও অন্যান্য ব্যক্তির উপস্থিতিতে খাম দুটি খোলা হলে ভেতরে কোনো লিখিত নোটিশ পাওয়া যায়নি। পুরো ঘটনাটি ভিডিও ধারণ এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সংবাদ সম্মেলনে রাধেশ্যাম কর্মকার অভিযোগ করেন, সঞ্জিব কর্মকার ও তার ছোট ভাই সঞ্জয় কর্মকারসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র ভুয়া চেক, লিগ্যাল নোটিশ ও মামলা ব্যবহার করে তাকে এবং তার পরিবারকে হয়রানি করছে। তিনি এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রধান বিচারপতি, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ সময় উপস্থিত স্থানীয় সাংবাদিক ইমাম হোসেন নাহিদ, ব্যবসায়ী আবু সাইদ, আল আমিনসহ একাধিক ব্যক্তি বলেন, একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিভিন্নভাবে মানুষকে হয়রানি করছে। তাদের দাবি, রাধেশ্যাম কর্মকারও দীর্ঘদিন ধরে মিথ্যা মামলা ও আইনি জটিলতার মাধ্যমে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সঞ্জিব কর্মকারের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য জানতে যশোরের আইনজীবী আব্দুল হালিম জোয়ার্দারকে ফোন করা হলে তিনি সাংবাদিককে বলেন, “আপনি সাংবাদিক হন না কেন, আপনি আমাকে ফোন দিবেন না।”
অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত শেষে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News