স্টাফ রিপোর্টার, বরগুনা: বরগুনার তালতলী উপজেলায় কোটি টাকার জমি দখলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, শতাধিক ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী এনে জোরপূর্বক ঘর নির্মাণ ও দেশীয় অস্ত্রের মহড়া দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে এক স্থানীয় সাংবাদিককে মারধরের চেষ্টা ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরে তালতলী উপজেলা পরিষদের পূর্ব পাশে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, উপজেলার বড়বগী মৌজার ৪৭০/৪৭১ নম্বর খতিয়ানের প্রায় ৫ একর ১ শতাংশ জমি ১৯৭৫ সালে আব্দুল আজিজ দফাদার ক্রয় করেন। তার ছেলে রিপন দফাদার দাবি করেন, দীর্ঘ ৫১ বছর ধরে তারা ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন। তবে গত এক বছর ধরে রফিকুল ইসলাম মুন্সি জমিটি নিজের দাবি করে দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বুধবার দুপুরে রফিকুল ইসলাম মুন্সি শতাধিক ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী এনে জমিতে ঘর নির্মাণ শুরু করেন। এ সময় সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিলে স্থানীয়দের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে পড়ে।
পরে খবর পেয়ে তালতলী থানা পুলিশ ও নৌবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে।
ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে স্থানীয় সাংবাদিক সোহেল রানাকে মারধরের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনি বুধবার বিকেলে তালতলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রফিকুল ইসলাম মুন্সি এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলে অভ্যস্ত এবং কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে মিথ্যা মামলায় হয়রানি করা হয়।
ভুক্তভোগী রিপন দফাদার বলেন, “আমার বাবার ক্রয় করা জমি আমরা দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছি। হঠাৎ করে সন্ত্রাসী বাহিনী এনে জোরপূর্বক ঘর নির্মাণের চেষ্টা এবং অস্ত্রের মহড়ায় এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রফিকুল ইসলাম মুন্সি বলেন, জমিটি তার নিজস্ব এবং তিনি সেখানে ঘর নির্মাণ করছেন। সাংবাদিককে হুমকির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমার কাজে বাধা দিলে কাউকে ছাড় দেই না।”
স্থানীয় সাংবাদিক সোহেল রানা বলেন, “সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ভিডিও ধারণ করতে গেলে আমাকে মারধরের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে।”
তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সাংবাদিকের সাধারণ ডায়েরির বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News