আমতলী প্রতিনিধি: বরগুনার আমতলী উপজেলার আড়পাঙ্গাশিয়া বাজারসংলগ্ন এলাকায় আড়পাঙ্গাশিয়া দারুচ্ছুন্নাত ছালেহিয়া দ্বীনিয়া মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র মোস্তাকিম বিল্লাহ লিমনের (১২) রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার বিকেলে নিজ বাড়ি থেকে তাকে ঘরের আড়ার সঙ্গে রশি প্যাঁচানো অবস্থায় উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। নিহত লিমন উপজেলার আড়পাঙ্গাশিয়া বাজারসংলগ্ন এলাকার মো. সোহেল মিয়ার ছেলে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে লিমন মাদ্রাসায় যাওয়া বন্ধ করে দেয়। বুধবার দুপুরে খাবারের জন্য ডাকাডাকি করেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে বিকেলে ঘরের আড়ার সঙ্গে রশি পেঁচানো অবস্থায় তাকে দেখতে পান স্বজনরা। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের চাচা শামীম মিয়া জানান, ফাঁসের দড়ি খুলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. নাজমুল হাসান রাহাত বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। আমতলী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আনোয়ার হোসেন জানান, মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিবারের দাবি, প্রায় চার মাস আগে লিমনের ওপর ‘জিনের আছর’ হয়েছিল এবং এরপর থেকে সে কয়েকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, শিশুটির গলায় ফাঁসের সুস্পষ্ট আলামত দেখা যায়নি। এ বিষয়ে আড়পাঙ্গাশিয়া দারুচ্ছুন্নাত ছালেহিয়া দ্বীনিয়া মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আসাদুজ্জামান বলেন, চার মাস ধরে লিমন মাদ্রাসায় আসছিল না। কয়েক দিন আগে তার বাবা আবার মাদ্রাসায় পাঠানোর কথা জানিয়েছিলেন। হঠাৎ তার মৃত্যুর খবর অত্যন্ত দুঃখজনক।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News