পাথরঘাটা প্রতিনিধি: বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার লেমুয়া সৈয়দ ফজলুল হক কলেজে মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত সেমিনার ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শনীতে মাদক নির্মূলের ওপর জোর দিয়েছেন স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও নীতিনির্ধারকরা: বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার লেমুয়া সৈয়দ ফজলুল হক কলেজে গত বৃহস্পতিবার ২৫ জুন ২০২৬ তারিখে একটি বিশেষ মাদকবিরোধী সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। তরুণ প্রজন্মের মাঝে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই আয়োজনে থিম সং পরিবেশন ও তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরগুনা জেলা জজকোর্টের পাবলিক প্রসিকিউট (পিপি) ও পৌর বিএনপি’র সাবেক আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন। অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল শিক্ষার্থীদের মাদকের মরণফাঁদ থেকে দূরে রাখা এবং একটি সুস্থ, স্বাভাবিক ও সৃজনশীল শিক্ষাঙ্গন নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা। আয়োজক পক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে এই সেমিনারটি মূলত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সার্বিক নির্দেশনার আলোকে সম্পন্ন করা হয়, যেখানে মাদকের কুফল সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
সেমিনারে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা মাদকের সহজলভ্যতা এবং এর ভয়াবহ সামাজিক প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ভুক্তভোগী পরিবার এবং স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশেপাশে মাদকের বিস্তার রোধে কেবল সেমিনার যথেষ্ট নয়, বরং কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বরগুনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব হুমায়ুন হাসান শাহীন বর্তমান সময়ে তরুণদের বিপথগামী হওয়ার পেছনে মাদকের সহজ লভ্যতাকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, একটি সমৃদ্ধ জাতি গঠনে যুবসমাজকে রক্ষা করা অপরিহার্য এবং এ ক্ষেত্রে পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। এছাড়া বিএনপি নেতা বাবুল হাওলাদার স্থানীয় পর্যায়ে মাদক সিন্ডিকেটগুলোর তৎপরতা রোধে প্রশাসনের আরও জোরালো হস্তক্ষেপের দাবি জানান, যাতে শিক্ষার্থীরা নির্ভয়ে ও নিরাপদ পরিবেশে নিজেদের মেধা বিকাশের সুযোগ পায়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক মোঃ হামিমুর রশীদ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে মাদকের আইনি দিক এবং এর বিরুদ্ধে চলমান সরকারি কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, মাদক নির্মূলে কেবল অভিযানই যথেষ্ট নয়, বরং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা প্রয়োজন। কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জিয়াউল করিম তার বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, মাদক কেবল ব্যক্তির জীবন ধ্বংস করে না, বরং একটি পরিবারের স্বপ্ন এবং দেশের ভবিষ্যৎকেও অন্ধকারে ঠেলে দেয়। প্রশাসনের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি কলেজের শিক্ষক ও অভিভাবকদের নিয়মিত যোগাযোগের ওপর জোর দেন যাতে কোনো শিক্ষার্থী ভুল পথে পা বাড়ালে দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হয়। স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং প্রশাসনের এই সম্মিলিত প্রচেষ্টা মাদকবিরোধী লড়াইয়ে একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে বলে মনে করছেন উপস্থিত সুধীবৃন্দ। শিক্ষাঙ্গনে এই ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রমের প্রভাব সুদূরপ্রসারী, যা দীর্ঘমেয়াদে তরুণদের নৈতিক স্খলন রোধে সহায়তা করবে। পাথরঘাটার মতো উপকূলীয় জনপদে মাদকবিরোধী এমন উদ্যোগ কেবল শিক্ষার্থীদের সচেতনই করছে না, বরং স্থানীয় অপরাধ প্রবণতা কমাতেও ভূমিকা রাখছে। অদূর ভবিষ্যতে স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এই ধরনের কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালনা করা হলে মাদকের করাল গ্রাস থেকে নতুন প্রজন্মকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। সামাজিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশকে নিরাপদ রাখার যে অঙ্গীকার এই সেমিনার থেকে এসেছে, তা বাস্তবায়িত হলে পাথরঘাটায় একটি সুস্থ ও মাদকদ্রব্যমুক্ত সমাজ বিনির্মাণ সম্ভব হবে।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News