বেতাগী প্রতিনিধি: বরগুনার বেতাগী সরকারি কলেজের প্রাণীবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মাকসুদের বিরুদ্ধে নিজ ছাত্রীর সাথে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে! ভিডিও দেখুন 👇
বরগুনার বেতাগী সরকারি কলেজের প্রাণীবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মাকসুদের বিরুদ্ধে এক সময়কার তার ছাত্রীর সাথে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও ভিডিওতে দেখা যায় তিনি প্রকাশ্যে হাত ধরে টানাটানি করছেন তার এক সময়কার ছাত্রীকে নিয়ে এবং সিগারেট ফুকাচ্ছেন! স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই তরুণী মোকামিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন এবং তিনি বেতাগীর মোকামিয়া বাজারের বাসিন্দা নাসিরুদ্দিন মারুফ আকনের কন্যা। একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জনসমক্ষে আসে, যা স্থানীয় শিক্ষা ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। ঘটনাটি মূলত কখন এবং কীভাবে সংঘটিত হয়েছে তা নিয়ে তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে, তবে প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্যানুযায়ী শিক্ষক ও ছাত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে যা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ঘটনার আকস্মিকতায় সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষ স্তম্ভিত হয়ে পড়েছেন এবং শিক্ষাঙ্গনের মর্যাদা রক্ষায় ঘটনার স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা এবং ভুক্তভোগীর পরিচিত মহল থেকে দাবি করা হচ্ছে, অভিযুক্ত শিক্ষক মাকসুদ বিবাহিত এবং তার নিজের সংসার থাকা সত্ত্বেও তিনি এই অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন! বিবাহিত একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এমন অনৈতিক সম্পর্ক কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা। ভুক্তভোগী তরুণীর পরিবারের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো মন্তব্য না পাওয়া গেলেও স্থানীয় পর্যায়ে এ নিয়ে তীব্র নিন্দার ঝড় বইছে। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে দেখা যাচ্ছে, ক্ষমতার প্রভাব কিংবা ব্যক্তিগত সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে শিক্ষকের এমন আচরণ কেবল ওই শিক্ষার্থীর জীবনকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, বরং সমগ্র শিক্ষক সমাজের ভাবমূর্তিকে চরম সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল পদে থেকে এমন কর্মকাণ্ড শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে বলে অভিভাবক মহল মনে করছেন।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর অভিযুক্ত প্রভাষক মাকসুদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি, যা তার অবস্থানকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে। অভিযুক্ত শিক্ষক গা ঢাকা দেওয়ায় বা কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা না দেওয়ায় ক্ষোভের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল এবং অভিভাবকরা দাবি জানিয়েছেন যে, কলেজ কর্তৃপক্ষ যেন অবিলম্বে এ বিষয়ে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং দোষী সাব্যস্ত হলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের ঘোষণা না আসায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ বাড়ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পবিত্রতা এবং শিক্ষার্থীদের নৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তদারকি এবং জরুরি প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব কেবল ওই শিক্ষক বা শিক্ষার্থীর ওপরই পড়ছে না, বরং এটি পুরো বেতাগী অঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থার ওপরও এক ধরনের কালিমা লেপন করেছে। শিক্ষকের নৈতিক অধঃপতনের ফলে অভিভাবকরা এখন তাদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন, যা ভবিষ্যতে শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষার্থী ভর্তির হার এবং শিক্ষার পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হয়, তবে এই ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা থেকে যাবে, যা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য অশনিসংকেত হিসেবে গণ্য হবে।
জনমতের চাপে এখন স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করতে হবে যাতে শিক্ষাঙ্গনের মর্যাদা পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়,,
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News