বরগুনার আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নে প্রতিবেশীর বিয়ের কথাবার্তা চলার জেরে চলাচলের একমাত্র রাস্তা কেটে গোয়ালঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছে।
শুক্রবার (১ মে) সকালে উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত সঙ্কর দাস ও তার ছেলে লাল মোহন দাসের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিনে জানা যায়, অভিরাম দাস, কালাচাঁন দাস ও সুখলাল দাস—এই তিন পরিবারের যাতায়াতের জন্য প্রায় এক যুগ আগে একটি রাস্তা নির্মাণ করা হয়। সম্প্রতি ওই রাস্তা কেটে সেখানে গোয়ালঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেন অভিযুক্তরা।
ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি, কালাচাঁন দাসের মেয়ের বিয়ের আলোচনা চলছিল এবং আগামী সোমবার পাত্রপক্ষ মেয়ে দেখতে আসার কথা রয়েছে। বিষয়টি জানার পর পরিকল্পিতভাবে চলাচলের একমাত্র পথটি কেটে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন নগেন চন্দ্র দাস।
এলাকাবাসী জানায়, প্রায় এক মাস আগে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে আমিন দিয়ে জমি মাপঝোঁক করে তিন অংশীদার—বিশ্বেশ্বর দাস, কালীচরণ দাস ও বলরাম দাসের মধ্যে সমানভাবে বণ্টন করা হয়। সে সময় সঙ্কর দাস ও লাল মোহন দাস সালিশের সিদ্ধান্ত মেনে নিলেও পরে তা অমান্য করে পুনরায় রাস্তা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ শুরু করেন।
স্থানীয় শালিস মোহাম্মদ আজিজ ডাকুয়া বলেন, “আমরা সালিশে উপস্থিত থেকে জমি ভাগ করে দিয়েছি। কিন্তু এখন শুনছি চলাচলের রাস্তা কেটে গোয়ালঘর নির্মাণ করা হচ্ছে, যা দুঃখজনক।”
ভুক্তভোগী অভিরাম দাসের স্ত্রী শিখা রানী বলেন, “আমাদের চলাচলের একমাত্র পথটি কেটে ফেলা হয়েছে। বিকল্প কোনো রাস্তা নেই। এই পথ দিয়েই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আনা-নেওয়া করা হতো। এখন আমরা চরম দুর্ভোগে পড়েছি।”
অভিযোগের বিষয়ে সঙ্কর দাস রাস্তা কাটার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে আমতলী থানা-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাহাদাৎ মো. হাসনাইন পারভেজ জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছে। পাশাপাশি উভয় পক্ষকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ থানায় উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে দ্রুত স্থায়ী সমাধানের দাবি উঠেছে।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News