ঢাকা আজকের তারিখঃ | বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বরগুনা জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভা বরগুনায় CRIMP প্রকল্পের আওতায় ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত আমতলীতে তিন মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার: বরগুনায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা তালতলীতে বিদ্যালয় মেরামত ও শ্রেণীকক্ষ নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে! আমতলীতে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু: পরিবারের দাবি হত্যা! বেতাগীতে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বরগুনায় পুলিশের অভিযানে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ চোরাইমাল উদ্ধার: গ্রেফতার ২ বরগুনায় টাকা দিতে না পারায় কোদালের আঘাতে রক্তাক্ত বাবা ও ভাইয়ের স্ত্রী: আহত ২ বরগুনায় মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলায় বাদীর ৩ মাসের কারাদণ্ড! আমতলীর আড়পাঙ্গাশিয়া খাল থেকে অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার: বরগুনার সাবেক এসিল্যান্ড শাওন মজুমদারকে প্রত্যাহার: স্পিকারের নামে জাল ডিও পত্র! পাথরঘাটায় ১১৩টি পুকুরে চার লক্ষাধিক মাছের পোনা অবমুক্ত: আধুনিক ভবন আছে, নেই পর্যাপ্ত শিক্ষক: সংকটে বরগুনার ২ সরকারি বিদ্যালয়ের পাঠদান বরগুনায় বৃষ্টিস্নাত উৎসবমুখর আয়োজনে পূবালী ব্যাংকের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পাঁচ দফা দাবিতে বরগুনাসহ সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট! তালতলীতে কচুপাত্রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অবৈধ পকেট কমিটি গঠনের অভিযোগ! বরগুনায় গাঁজা সেবনের সময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ওয়ার্ড সভাপতি আটক! সৌন্দর্যের আড়ালে সংকট: নদীভাঙন, দূষণ ও জলবায়ু ঝুঁকিতে পাথরঘাটার প্রকৃতি বরগুনায় স্বেচ্ছাসেবকদের মাঝে জরুরি সুরক্ষা সরঞ্জাম বিতরণ

বরগুনায় নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে সরকারি হাসপাতালের অফিস সহকারী গ্রেফতার

  • প্রকাশের সময় : Jul 8, 2026 ইং
বরগুনায় নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে সরকারি হাসপাতালের অফিস সহকারী গ্রেফতার ছবির ক্যাপশন: বরগুনায় নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে সরকারি হাসপাতালের অফিস সহকারী গ্রেফতার
ad728
কলেজছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে এমটিইপিআই কর্মী কারাগারে-

বরগুনা জেলা প্রতিনিধি: বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের এক অফিস সহকারীকে এক নাবালিকা মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে গতকাল গ্রেফতার করেছে বরগুনা থানা পুলিশ। এই নির্মম ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে সমগ্র জেলাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও চরম স্তম্ভিতাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী মেয়েটি বর্তমানে ওই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম "কবির"। তার বিরুদ্ধে এর আগেও নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। অতীতেও তার বিরুদ্ধে অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকা, পরকীয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর ও অশালীন আচরণের মতো একাধিক লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ উঠেছিল। গত বুধবার (৮ জুলাই) তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় বরগুনা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার অভিযোগে ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, সুমাইয়া ইসলাম নিসা (১৬) বরিশালের বাকেরগঞ্জ গার্লস স্কুল থেকে ২০২৬ সালে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। প্রায় এক মাস আগে সে বরগুনা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের উকিলপট্টি এলাকায় অবস্থিত এনামুল কবির পরিচালিত ‘ক্লাসিক কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে’ ভর্তি হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ভর্তি হওয়ার কিছুদিন পর থেকেই এনামুল কবির শিক্ষার্থীর প্রতি খারাপ দৃষ্টিভঙ্গি প্রদর্শন করতেন এবং কম্পিউটার শেখানোর অজুহাতে বিভিন্ন সময় অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করতেন।
গত ৭ জুলাই বিকেল আনুমানিক ৩টা ১৫ মিনিটে সুমাইয়া ইসলাম নিসা প্রতিদিনের মতো প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে যায়। সে সময় সেখানে আরও দুইজন শিক্ষার্থী ছিল। একপর্যায়ে অন্য শিক্ষার্থীরা চলে গেলে এনামুল কবির তাকে একটি কাজ শেষ করার কথা বলে কক্ষে আটকে রাখেন। পরে সুযোগ পেয়ে কম্পিউটার শেখানোর অজুহাতে তার সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী বাঁধা দিয়ে চিৎকার করার চেষ্টা করলে অভিযুক্ত তাকে জাপটে ধরে। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তার ডান হাতের কবজি ও বাম হাতের কনিষ্ঠ আঙুলে আঘাত লাগে। পরে প্রাণে বাঁচতে তিনি অভিযুক্তকে ধাক্কা দিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে বাসায় চলে যান। বাসায় গিয়ে তিনি মায়ের কাছে পুরো ঘটনা খুলে বলেন।

এরপর ভুক্তভোগীকে নিয়ে তার পরিবার বরগুনা সদর থানায় গেলে পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত এনামুল কবিরকে আটক করা হয়। পরে তাকে আদালতে হাজির করলে আদালত তাকে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এদিকে, ভুক্তভোগী বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বরগুনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু সাহাদৎ মো. হাচনাইন পারভেজ বলেন, ভুক্তভোগী ও তার মা থানায় এসে অভিযোগ করলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এনামুল কবিরকে আটক করে। পরে ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই নৃশংস ঘটনার পর স্থানীয় জনগণের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও নিরাপত্তার অভাব দেখা দিয়েছে। অনেকেই এখন হাসপাতালের প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, অতীতে ওই কর্মচারীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো যদি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হতো এবং যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতো, তবে হয়তো আজকের এই ভয়াবহ tragedy বা দুর্ঘটনাটি এড়ানো সম্ভব হতো। সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা এই জঘন্য ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা সাফ জানিয়েছেন যে, নারী নির্যাতন বা যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা নীতি অবলম্বন করতে হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক মানবাধিকার কর্মী বলেন, "আমরা এই ঘটনার একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ, দ্রুত এবং স্বচ্ছ তদন্ত দাবি করছি। তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তকে আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে।" 

পাশাপাশি, সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং হাসপাতালে আসা রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে—গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত যেকোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি উঠেছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : দৈনিক শেষকথা Seshkatha News

কমেন্ট বক্স
তালতলীতে ভাইরাল হওয়া উপজেলা প্রকৌশলীর অডিও-র তদন্তে এলজিইডি

তালতলীতে ভাইরাল হওয়া উপজেলা প্রকৌশলীর অডিও-র তদন্তে এলজিইডি

ad300