‎ ‎
ঢাকা আজকের তারিখঃ | বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আমতলীতে মাদক, সন্ত্রাস ও সাইবার অপরাধবিরোধী কমিউনিটি পুলিশিং সভা বামনায় পৃথক অভিযান: ১৭ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৭ বরগুনায় ছয় দিনে ৫২৯ অভিযান: ২১৩ কিশোর-কিশোরী আটক, ২৬ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার বেতাগীতে রাজস্ব বাজেটের অর্থায়নে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত বামনা থেকে বিদায় নিলেন মানবিক ইউএনও মোসাঃ নিকহাত আরা বরগুনার সাবেক এমপি শম্ভু ও সূচনা ফাউন্ডেশনের আয়কর নথি জব্দ পাথরঘাটায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কর্মসূচি বেতাগী হাইস্কুলে ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা: রাস্তায় স্কুল ব্যাগ, দুর্ঘটনার শঙ্কা আমতলীতে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাথরঘাটায় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত পাথরঘাটায় ট্রলার ধোয়ার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে জেলের মৃত্যু বামনার ডৌয়াতলায় ভাড়া বাসা থেকে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার! বেতাগীতে জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত আমতলীতে ইয়াবা বিক্রি ও পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগে চম্পা বেগমসহ গ্রেপ্তার ৪ বরগুনা শিক্ষা প্রকৌশল অফিসের ঠিকাদারি কাজ বণ্টনে জিয়া সিন্ডিকেট! সবুজ পাথরঘাটা গড়তে জেলা প্রশাসকের চারা বিতরণ, ফুটবল টুর্নামেন্ট ও স্বাস্থ্যসামগ্রী প্রদান পাথরঘাটায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষায় নতুন দিগন্ত: বরগুনায় ৪০ পিস ইয়াবাসহ এক যুবক গ্রেফতার! বামনায় কিশোর গ্যাংবিরোধী পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, এক দিনে গ্রেপ্তার ২৫ জন বিলেতে বাংলা ভাষা বিস্তারে এম এ রহিমের অবদান, একুশে পদকের প্রত্যাশা

বরগুনায় ‘জিনের মসজিদের’ স্থাপত্যশৈলীতে মুগ্ধ দর্শনার্থীরা

  • প্রকাশের সময় : Mar 24, 2026 ইং
বরগুনায় ‘জিনের মসজিদের’ স্থাপত্যশৈলীতে মুগ্ধ দর্শনার্থীরা ছবির ক্যাপশন: বরগুনার বেতাগীতে ‘জিনের মসজিদের’
ad728
নিজস্ব প্রতিবেদক: মুঘল স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত বরগুনার ঐতিহাসিক "বিবীচিনী শাহী মসজিদ" আজও মুগ্ধ করছে দূর-দূরান্ত থেকে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের। দৃষ্টিনন্দন কারুকাজ, নান্দনিক নকশা এবং প্রাচীন ঐতিহ্যের কারণে এই মসজিদটি স্থানীয়দের কাছে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। লোকমুখে প্রচলিত আছে—প্রায় তিনশ বছর আগে জিন-পরির মাধ্যমে রাতারাতি এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এ কারণেই অনেকের কাছে এটি ‘জিনের মসজিদ’ বা ‘পরীর মসজিদ’ নামেও পরিচিত।

বরগুনার বেতাগী উপজেলার বিবিচিনি ইউনিয়নে সুউচ্চ টিলার ওপর অবস্থিত এই শাহী মসজিদটি লাল ইটের গাঁথুনি, সুচারু অলংকরণ ও অনন্য স্থাপত্যশৈলীর জন্য সুপরিচিত। কয়েক শতাব্দী ধরে এটি কেবল ইবাদতের স্থানই নয়, বরং ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলমানদের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবেও বিবেচিত। বর্তমানে মসজিদটি সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে Department of Archaeology Bangladesh-এর তত্ত্বাবধানে রয়েছে।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, মুঘল সম্রাট শাহ জাহান-এর শাসনামলে এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। এর আয়তন প্রায় ৩৩ ফুট লম্বা ও ৩৩ ফুট চওড়া এবং প্রতিটি দেয়াল প্রায় ৬ ফুট প্রশস্ত। ১৬৫৯ সালে সুদূর পারস্য থেকে আধ্যাত্মিক সাধক  শাহ্ নেয়ামতউল্লাহ দিল্লিতে আসেন। পরে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে তিনি বেতাগী এলাকায় এসে তৎকালীন সুবেদার শাহ সুজা-এর অনুরোধে এক গম্বুজবিশিষ্ট একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে তাঁর মেয়ে হায়াচ বিবি চিনির নাম অনুসারে মসজিদটির নামকরণ করা হয় ‘বিবিচিনি মসজিদ’।

তবে সে সময় এলাকাটি প্রায় জনমানবশূন্য থাকায় হঠাৎ জঙ্গলের মধ্যে মসজিদটি দেখতে পেয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ধারণা জন্ম নেয়—এটি জিন-পরিরা রাতারাতি নির্মাণ করেছে। সেই বিশ্বাস থেকেই এখনো অনেকেই মসজিদটিকে ‘জিনের মসজিদ’ নামে ডাকেন।

মসজিদটি দেখতে আসা পর্যটক মো. মিরাজ বলেন, “মসজিদটি প্রায় সাড়ে তিনশ বছরের পুরোনো। এর স্থাপত্য সৌন্দর্য সত্যিই মুগ্ধ করার মতো। প্রাচীন নিদর্শন হওয়ায় দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে নামাজ আদায় করতে আসেন। তবে জায়গা ছোট হওয়ায় একসঙ্গে অনেক মানুষ নামাজ পড়তে পারেন না। যদি জায়গা বৃদ্ধি করা হয়, তাহলে আরও বেশি মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন।”

একটি ওষুধ কোম্পানিতে কর্মরত মো. আহাদ রহমান বলেন, “চাকরির সুবাদে বেশ কয়েকবার এখানে এসেছি। প্রতিবারই মসজিদের সৌন্দর্য আমাকে মুগ্ধ করেছে। এর ঐতিহ্য রক্ষায় সরকারিভাবে আরও উদ্যোগ নেওয়া উচিত।”

স্থানীয় বাসিন্দা মো. সবুজ হোসেন জানান, “আমরা ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি এই মসজিদ জিন-পরিরা এক রাতেই তৈরি করেছে। মসজিদটি আগে আরও উঁচুতে ছিল এবং পাশের একটি পুকুর থেকেও নাকি গায়েবিভাবে অনেক কিছু পাওয়া যেত।”

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা আব্দুল শুক্কুর মোল্লা বলেন, “আগের মানুষদের মুখে শুনেছি জায়গাটি একসময় ঘন জঙ্গল ছিল এবং বাঘ-ভাল্লুকের বসবাস ছিল। তাই অনেকেই মনে করেন মানুষের পক্ষে তখন এখানে মসজিদ নির্মাণ করা সম্ভব ছিল না।”

ঐতিহাসিক এই মসজিদে প্রায় ২০ বছর ধরে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মো. আব্দুল মান্নান। তিনি বলেন, “ইতিহাস অনুযায়ী মসজিদটি শাহ নেয়ামতউল্লাহ নির্মাণ করেছেন। তবে সে সময়ের কোনো মানুষ এখন জীবিত নেই, তাই অনেকে বিভিন্ন গল্প প্রচলিত করেছেন। যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় অনেকেই এটিকে গায়েবি মসজিদ বলেও মনে করেন।”

তিনি আরও জানান, এক সময় মসজিদটি ঘন জঙ্গলের মধ্যে লুকিয়ে ছিল। পরে স্থানীয়দের উদ্যোগে জঙ্গল পরিষ্কার করে এটি আবিষ্কার করা হয়। দীর্ঘদিন এখানে শুধু জুমার নামাজ আদায় করা হতো।

উল্লেখ্য, ১৯৮৫ সালে বেতাগী উপজেলা প্রশাসন প্রথম মসজিদটি সংস্কার করে। পরে ১৯৯২ সালে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ মসজিদটির রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের দায়িত্ব গ্রহণ করে। বর্তমানে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটক ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা এই ঐতিহাসিক মসজিদটি দেখতে ও নামাজ আদায় করতে আসছেন।

নিউজটি আপডেট করেছেন : দৈনিক শেষকথা Seshkatha News

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বেতাগীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে রথযাত্রা:

বেতাগীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে রথযাত্রা:

ad300