বরগুনার আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের কানাই মৃধা বাজার যুবসমাজের উদ্যোগে গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই ২০২৬) দুপুর ১২ টায় মাদক বিরোধী র্যালী ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এলাকাবাসী এ ব্যাপারে তাদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং এভাবে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় সাধুবাদ জানিয়েছেন। যুব সমাজের উচিত মাদকবিরোধী এ ধরনের সকল প্রোগ্রামে নিজেদের উদ্যোগী হয়ে কাজ করা।
বরগুনার আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের কানাই মৃধা বাজারে গত ২ জুলাই ২০২৬ তারিখে এক বর্ণাঢ্য মাদকবিরোধী র্যালি ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়। স্থানীয়দের স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে এলাকার শত শত মানুষ অংশগ্রহণ করেন। দুপুর ১২টায় শুরু হওয়া এই র্যালিটি কানাই মৃধা বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে এবং পরবর্তীতে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। মূলত ক্রমবর্ধমান মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার রোধে এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদকের মরণফাঁদ থেকে দূরে রাখতেই এই জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়েছে। স্থানীয় যুবকদের এই উদ্যোগটি বর্তমান সময়ে মাদক নির্মূলের লড়াইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সমাবেশে অংশগ্রহণকারী স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের বক্তব্যে মাদকের ভয়াবহতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলোতে মাদকদ্রব্য সহজলভ্য হওয়ায় তরুণরা দ্রুত আসক্ত হয়ে পড়ছে, যা পারিবারিক ও সামাজিক শান্তি বিঘ্নিত করছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, মাদক কারবারিদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী বিপথগামী হচ্ছে। স্থানীয় এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের সন্তানদের সঠিক পথে রাখতে হলে কেবল আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়, বরং সমাজকে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। যুবসমাজের এই সাহসী পদক্ষেপে সাধারণ মানুষ আশান্বিত বোধ করছেন এবং মাদক বিক্রেতাদের চিহ্নিত করে প্রশাসনের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছেন। মাদকবিরোধী এই কর্মসূচির প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকরা জানিয়েছেন, যুবসমাজের এই উদ্যোগ প্রশাসনকে মাদকের বিরুদ্ধে আরও কঠোর হতে উৎসাহিত করবে। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এটি কেবল একটি প্রতীকী কর্মসূচি নয়, বরং মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সামাজিক বয়কটের প্রাথমিক পদক্ষেপ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত টহল এবং মাদকবিরোধী অভিযানের দাবি জানিয়ে তারা বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি স্থানীয় যুবকদের তথ্যের ভিত্তিতে মাঠপর্যায়ে কঠোর নজরদারি বজায় রাখে, তবেই মাদক নির্মূল করা সম্ভব। যুবসমাজের এমন ইতিবাচক কর্মকাণ্ডকে স্থানীয় প্রশাসন স্বাগত জানিয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সচেতনতামূলক কাজে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।
আমতলীতে এই সম্মিলিত আওয়াজ মাদকের করাল গ্রাস থেকে নতুন প্রজন্মকে রক্ষার একটি শক্তিশালী ইঙ্গিত। এই ধরনের উদ্যোগ যদি নিয়মিতভাবে এবং বৃহত্তর পরিসরে পরিচালিত হয়, তবে সমাজে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। পরিবহন খাত থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত মাদকের যে বিষাক্ত প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে, তা রুখতে স্থানীয়ভাবে গড়ে ওঠা এই প্রতিরোধ ব্যবস্থা সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। মাদকবিরোধী এই লড়াইয়ের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদী হবে এবং তা স্থানীয় যুবসমাজকে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News