স্টাফ রিপোর্টার: বরগুনার সদর উপজেলায় সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকে নগদ অর্থ ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুটে নেওয়ার পর বসতঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সংঘবদ্ধ চোর চক্রের বিরুদ্ধে। আগুনে মুহূর্তেই পুড়ে ছাই হয়ে যায় একটি পরিবারের আজীবনের সঞ্চয় ও স্বপ্ন।
গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাত আনুমানিক ২টার দিকে বরগুনা সদর উপজেলার গৌরীচন্না ইউনিয়নের আমতলী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আগুনে ভস্মীভূত হওয়া বাড়ির মালিক আব্দুল লতিফ রাঢ়ি পেশায় একটি এতিমখানার সেবক।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গভীর রাতে হঠাৎ আগুনের তাপ ও ধোঁয়ার গন্ধে তাদের ঘুম ভেঙে যায়। এসময় দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে প্রাণে রক্ষা পেলেও ঘরের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র, ফ্রিজ, টেলিভিশন, কাপড়চোপড়, চাল-ডালসহ কোনো কিছুই রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। অল্প সময়ের মধ্যেই দোতলা কাঠের ঘরটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
রাতের অন্ধকারে প্রথমে আগুন লাগার কারণ বুঝতে না পারলেও ভোর হলে স্থানীয়রা ঘরের সিঁধ কাটা দেখতে পান। এরপর ধারণা করা হয়, চোর চক্র প্রথমে চুরি করে পরে ঘটনাটি আড়াল করতে পরিকল্পিতভাবে ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দা অপূর্ব মাঝি বলেন, “আগুনে পরিবারটির সহায়-সম্বল ও মাথাগোঁজার ঠাঁই সবকিছু ভস্মীভূত হয়েছে। সবার ধারণা, চোর চক্র চুরি করার পর ঘরটিতে পরিকল্পিতভাবে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া দরকার।”
ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির মালিক আব্দুল লতিফ রাঢ়ি বলেন,
“আমি দিন আনি দিন খাই। একটি এতিমখানায় বাচ্চাদের দেখাশোনার কাজ করে যা পাই, তা দিয়েই তিলে তিলে জমি ও ঘর তৈরি করেছি। ঘরে যা ছিল সবই শেষ। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় থাকব, কী খাব কিছুই বুঝতে পারছি না।”
আমতলী গ্রামের ইউপি সদস্য মানিক রায় বলেন,
“রাতে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। তখন চুরির বিষয়টি সামনে আসেনি। সকালে সিঁধ কাটা দেখে ধারণা করছি, চোর চুরি করার পর ঘরে আগুন লাগিয়ে পালিয়ে গেছে। অগ্নিকাণ্ডে লতিফ রাঢ়ি পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে গেছেন।”
এ বিষয়ে বরগুনা সদর থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেন, “এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News