বরগুনা প্রতিনিধি: তীব্র চিকিৎসক সংকট ও চিকিৎসকদের অননুমোদিত অনুপস্থিতির কারণে বরগুনার সরকারি স্বাস্থ্যসেবা চরম অচলাবস্থায় পড়েছে। নতুন চিকিৎসকদের পদায়ন করা হলেও তদবির ও প্রভাব খাটিয়ে তারা সুবিধাজনক স্থানে বদলি হয়ে যান। ফলে বারবার আন্দোলন করেও উপকূলীয় এই জেলার স্বাস্থ্যসেবায় কোনো উন্নতি হচ্ছে না। পরিসংখ্যান বলছে, বরগুনার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকের মোট ২৯৩টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৭৭ জন। ২১৬টি পদই শূন্য, যা বর্তমান কর্মরত সংখ্যার প্রায় তিনগুণ। এর ওপর অন্তত ১৪ জন চিকিৎসক কোনো প্রকার অনুমোদন ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে অনুপস্থিত রয়েছেন। নানা অজুহাত দেখিয়ে অনুপস্থিত যারা-
পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. মো. মাশফিকুর রহমান ২০২২ সালের জুলাই থেকে অনুপস্থিত। ওটি সুবিধা না থাকা ও পারিবারিক অজুহাতে পরে তিনি পদত্যাগপত্র পাঠান। আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. উৎপল নাগ ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে ফিরছেন না। তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. মো. মোজাম্মেল ঢাকার বাইরে চাকরি করতে অনিচ্ছা জানিয়ে অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত রয়েছেন।
অনুমোদন ছাড়া কর্মস্থলে গরহাজির থাকায় বেশ কয়েকজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তালিকায় রয়েছেন
- বেতাগী উপজেলার ডা. সিগমা ওয়ালিদ ও প্যাথলজিস্ট ডা. শায়ন্তা ঘোষ
- বামনা উপজেলার ডা. এস এম সাদিকুর রহমান
- আমতলী উপজেলার ডা. ফাইজুর রহমান
- পাথরঘাটা উপজেলার ডা. মো. রুবাইয়াত আলী
এ ছাড়া বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. মাসুদুর রহমান, বদলিকৃত সহকারী সার্জন ডা. মো. মেহেদী হাসান ও ডা. গোলাম আহমেদ ফাহিমের বিরুদ্ধে নোটিশ ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরগুনা জেলা শাখার অভিযোগ, শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবে চিকিৎসকরা নিয়ম ভাঙার সাহস পাচ্ছেন।
বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ বলেন, "পদায়নের পর অনুমোদন ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার কোনো সুযোগ নেই। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে।"
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News