বরগুনা প্রতিনিধি: বরগুনার সদর উপজেলার গৌরীচন্না ইউনিয়নে জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক বৃদ্ধ ও এক নারীকে মারধর, শ্লীলতাহানি এবং স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় বরগুনা থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীর স্বজন মোঃ হাবিবুর রহমান।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, বরগুনা সদর উপজেলার ২নং গৌরীচন্না ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের উত্তর লাকুরতলা এলাকার বাসিন্দা মোঃ হাবিবুর রহমানের সঙ্গে প্রতিবেশী হারুন খা ও ফোরকান খাসহ অভিযুক্তদের দীর্ঘদিন ধরে জমি-জমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল।
মামলার দ্বিতীয় তারিখে বিজ্ঞ আদালত বিষয়টি মীমাংসার জন্য উভয় পক্ষের আইনজীবীদের আহ্বান জানান। তারই প্রেক্ষিতে গত ০৬/১০/২০১৫ তারিখ সন্ধ্যায় আমার মামলার আইনজীবী মোঃ রুহুল আমীন-এর চেম্বারে যাওয়ার পথে চেম্বার গলির মেইন সড়কে বিবাদীপক্ষের ৬২/২০১৫ বিতার মামলার বিবাদী হারুন গং ইট দিয়ে হামলা করে। ইটের আঘাতে উক্ত মামলার ৪নং সাক্ষী মোঃ এনায়েত খানের পা ভেঙে যায় এবং তিনি গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
গত ১৭/১১/২০২৫ তারিখে মামলার বিবাদী হারুনকে কে বা কাহারা আহত করেছে, তাহা আমার জানা নেই। উক্ত মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমাকে এবং আমার ছেলে নাঈমকে আসামি করে বরগুনা কোর্টে মামলা করেন, যার মামলা নং ১৫৪২/২০২৫। উক্ত ঘটনার সাথে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। মারামারির মিথ্যা ঘটনাকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে বানোয়াট তথ্য দিয়ে “বরগুনা কোর্টে যাওয়ার পথে বাদীকে পেটালো আসামিপক্ষ” এই শিরোনামে কিছু প্রতিবেদন প্রকাশিত করেন, যা সম্পূর্ণ অসত্য।
জমিজমা সংক্রান্ত মামলা ও ঝামেলার কারণে স্থানীয়ভাবে ০৪/০৪/২০২৫ তারিখে আমার নিজ বাড়িতে একটি সালিশ বৈঠক বসে। সালিশদারদের সিদ্ধান্ত না মেনে হারুন মিয়াগং আমার বাড়িঘর এবং আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। উক্ত হামলার অভিযোগ থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য একই তারিখে বরগুনা কোর্টে সিআর পাওয়ার উদ্দেশ্যে ৩৯৯/২০২৫ নং একটি মিথ্যা মামলা করে। আমাকে এবং আমার ছেলে নাঈমকে আসামি করা হয়।
উক্ত মামলার ঘটনা তদন্তকালে থানার কর্মকর্তা মেহেদী ঘটনার কোনো সত্যতা পাননি। পরবর্তীতে হারুন মিয়া পুনরায় তদন্তের জন্য ডিবি কার্যালয়ে প্রেরণ করেন। ডিবি অফিস থেকেও মামলার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। এরপরও হারুন মিয়ার পক্ষে মিথ্যা প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।
দেওয়ানি মামলা নং ২৩০/২০১৫-এ বিজ্ঞ বেলা জজ কর্তৃক আমি আমার পক্ষে রায় পাই। বিবাদী হারুন মিয়া উক্ত রায়ের বিরুদ্ধে ১৫/১১/২০২৪ তারিখে আপিল করেন। আপিলে আমার আইনজীবী মোঃ মোয়াজ্জেম-এর নামের পরিবর্তে হারুন মিয়ার আইনজীবী মোঃ নাঈম হোসেন-এর নাম প্রিন্ট করা হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে নাঈম উকিলের নাম কলম দিয়ে কেটে হাতে লিখে মোয়াজ্জেম-এর নাম সংযুক্ত করা হয়। এতে বাদীপক্ষের উকিলের অবৈধ প্রভাব ও সিন্ডিকেটের বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়।
এ নিয়ে পূর্বেও থানায় সাধারণ ডায়েরি ও আদালতে নন-এফআইআর মামলা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, গত ১৩ মে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সাক্ষী আব্দুস ছালাম খান গরু আনতে বাড়ির পেছনের কোলায় গেলে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার পথরোধ করে। এসময় তারা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করে। হামলার সময় হারুন খা লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাতের চেষ্টা করলে তিনি হাত দিয়ে ঠেকাতে গিয়ে আহত হন। এছাড়া ফোরকান খা লাঠি দিয়ে পিটিয়ে তার পায়ে রক্তাক্ত জখম করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এসময় আব্দুস ছালাম খানের ডাকচিৎকার শুনে তাকে উদ্ধার করতে গেলে সেলিনা বেগমকেও মারধর করা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার সময় আব্দুস ছালাম খানের পকেটে থাকা ৩ হাজার ৫৬০ টাকা এবং সেলিনা বেগমের কানে থাকা প্রায় ৯৩ হাজার ৭৫০ টাকা মূল্যের স্বর্ণের ঝুমকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি শ্লীলতাহানির ঘটনাও ঘটানো হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বরগুনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
এ বিষয়ে বরগুনা থানার কর্মকর্তারা জানান, লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News