নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: ঢাকার একজন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাক্ষর ও সরকারি সিল জাল করে বিয়ের হলফনামা তৈরি এবং সেই জাল নথি ব্যবহার করে বরগুনার আদালতে মামলা দায়েরের চেষ্টায় বরগুনার এক আইনজীবীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
গত রোববার রাতে কোতোয়ালি থানায় মামলাটি করেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের অফিস সহকারী (কাম-কম্পিউটার অপারেটর) খালিদ হোসেন। মামলার আসামিরা হলেন বরগুনা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট তরিকুল ইসলাম (তরু) ফরাজী, মো. নয়ন ও ফাহিমা ইসলাম রিয়া।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম রবিউল ইসলাম মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, রোববার বিকেলে ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে নয়ন ও রিয়ার একটি বিয়ের হলফনামা যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হয়। হলফনামার স্মারক নম্বর যাচাই করতে গিয়ে অফিস সহকারী খালিদ হোসেন দেখতে পান, উল্লিখিত স্মারক নম্বরটি অন্য একটি ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত। পরে বিষয়টি তদন্ত করে তিনি নিশ্চিত হন যে, ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাক্ষর ও সরকারি সিল জাল করে প্রতারণার মাধ্যমে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে ওই হলফনামা তৈরি করা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, মুসলিম বিয়ের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী কাজীর মাধ্যমে বিয়ে নিবন্ধন করতে হয়। অথচ নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে তৈরি করা ওই হলফনামায় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের জাল স্বাক্ষর ও সিল ব্যবহার করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, জাল হলফনামাটি ব্যবহার করে বরগুনার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামকে জড়িয়ে একটি মামলা দায়েরের চেষ্টা করা হয়। তবে মামলার উপাদান না থাকায় বরগুনার বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট আরিফ হোসাইন সেটি খারিজ করে দেন। মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, আসামিরা একটি জালিয়াত চক্রের সদস্য। তারা বিভিন্ন সময় ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাক্ষর ও সিল জাল করে নোটারি হলফনামা প্রস্তুত করে বিভিন্ন মামলা ও প্রাতিষ্ঠানিক কাজে ব্যবহার করে আসছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News