আমতলী প্রতিনিধি: বরগুনার আমতলীতে এক বছর চার মাস পর আবারও ইসমাইল শাহ (রহ.) মাজারে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা মাজার ও পাশের বসতঘরে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয় বলে অভিযোগ করেছেন মাজার সংশ্লিষ্টরা। এতে মাজারের গিলাফের একাংশ পুড়ে যায়। এ ঘটনায় ভক্ত ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
মাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল অভিযোগ করেন, মাজার ধ্বংসের উদ্দেশ্যে একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে বারবার হামলা ও অগ্নিসংযোগের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আমতলী পৌর শহরের বটতলা এলাকায় ১৯৯৬ সালে ইসমাইল শাহ (রহ.)-এর মাজার প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে প্রতিবছর দুই দিনব্যাপী ওরশ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। গত বছরের ১৬ মার্চ ২৮তম ওরশ চলাকালে শতাধিক লোকের একটি দল মাজারে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হন। অভিযোগ অনুযায়ী, সেই ঘটনার এক বছর চার মাস পর শুক্রবার গভীর রাতে আবারও মাজার এবং ইসমাইল শাহর ছেলে শহীদ চিশতির বসতঘরে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। স্থানীয়রা আগুন দেখতে পেয়ে দ্রুত ছুটে এসে তা নিয়ন্ত্রণে আনেন। এতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হলেও মাজারের গিলাফের একাংশ পুড়ে যায়। পরবর্তীতে শনিবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাজারের গিলাফের একটি অংশ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাজারের মেঝে ও শহীদ চিশতির ঘরের আশপাশে কেরোসিনের গন্ধ ও দাগও দেখা যায়। মাজারের ভক্ত সেকান্দার বয়াতি জানান, গভীর রাতে প্রকৃতির ডাকে বাইরে বের হয়ে তিনি মাজারে আগুন জ্বলতে দেখেন। পরে চিৎকার করলে স্থানীয়রা ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। শহীদ চিশতি বলেন, মানুষের চিৎকারে ঘুম ভাঙার পর তিনি কেরোসিনের গন্ধ পান। ঘর থেকে বের হতে গিয়ে দরজা খুলতে না পেরে আটকে পড়েন। পরে স্থানীয়রা দরজা খুলে তাকে উদ্ধার করেন। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। স্থানীয়দের দাবি, একই মাজারকে কেন্দ্র করে বারবার হামলা ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ওঠায় ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News