পাথরঘাটা প্রতিনিধি: বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির বিরুদ্ধে জেলে, মাছ ধরার ট্রলার, স্টিল বডি ট্রলার ও ছোট জাহাজের মালিকদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে আরটিভির এক সাংবাদিক জেলের ছদ্মবেশে গোপন অনুসন্ধান চালিয়ে গতকাল অভিযোগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য ও ভিডিওচিত্র সংগ্রহ করেছেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, বাড়ানি খাল দিয়ে চলাচলকারী মাছ ধরার ট্রলার, স্টিল বডি ট্রলার ও ছোট জাহাজ থেকে মাসিক ভিত্তিতে টাকা আদায় করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত অর্থ না দিলে মামলা, হয়রানি কিংবা নৌযান আটকে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে সাংবাদিক জেলের পরিচয়ে নৌ পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই মো. কবিরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমে মোবাইল ফোনে টাকা দাবি করা হয়। পরে বিকাশে টাকা পাঠানোর পর আরও টাকা নিয়ে সরাসরি দেখা করতে বলা হয়। পরদিন চরদুয়ানী নৌ পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে তার হাতে নগদ টাকা তুলে দিলে তিনি তা গ্রহণ করেন বলে দাবি করা হয়েছে। পুরো ঘটনাটি গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা হয়। ভিডিওতে কথোপকথনের এক পর্যায়ে আদায় করা অর্থের ভাগ-বণ্টন সম্পর্কেও বিভিন্ন বক্তব্য উঠে আসে বলে অনুসন্ধানে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চরদুয়ানী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ গজনবী (গজ গভীর) মিয়া বলেন, “এ ধরনের কোনো চাঁদা আদায়ের বিষয়ে আমি কিছু জানি না।” এ বিষয়ে এএসআই মো. কবির বলেন, “আমি বর্তমানে ছুটিতে আছি। অভিযোগ সম্পর্কে কিছু জানি না।”
বরগুনা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, “জেলেদের কাছ থেকে মাসোহারা আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিষয়টি যথাযথ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।” পাথরঘাটা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা হাসিবুল হক বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনশৃঙ্খলা সভায় উত্থাপন করা হবে।” এ ঘটনায় স্থানীয় জেলে ও ট্রলার মালিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News