আমতলী প্রতিনিধি : আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের আঙুলকাটা গ্রামে পায়রা নদীর তীরে অবৈধভাবে পুরাতন ব্যাটারি আগুনে জ্বালিয়ে সিসা তৈরির অভিযোগ উঠেছে। এতে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে প্রাকৃতিক পরিবেশ, জীব ও জীববৈচিত্র্য। কারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মো. আতাউর রহমান ও স্থানীয় সজল হাওলাদারের মালিকানায় গড়ে ওঠা এই কারখানায় প্রতিদিন রাতভর পুরাতন ব্যাটারির প্লেট পুড়িয়ে সিসা তৈরি করা হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, ১০ থেকে ১৫ জন শ্রমিক ব্যাটারি ভেঙে প্লেট আলাদা করছেন এবং চুল্লিতে কাঠকয়লার আগুনে সেগুলো পুড়িয়ে সিসা উৎপাদনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন রাত ৮টা থেকে ভোর পর্যন্ত চলা এ কার্যক্রমে আশপাশের এলাকায় শ্বাসকষ্ট, চোখ ও নাকে জ্বালাপোড়াসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা জানান, কারখানার বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অনেকেই শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এছাড়া এসিডযুক্ত বর্জ্য পানি ফসলি জমি, গাছপালা ও জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়ায় মাছ ও গবাদিপশুর জন্যও ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কারখানার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গেলে ভয়ভীতি দেখানো হয়। মালিকপক্ষের সঙ্গে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী বাহিনী জড়িত থাকার অভিযোগও করেন তারা। ফলে সাধারণ মানুষ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
এলাকাবাসী আরও জানান, কারখানার ধোঁয়া ও ছাই আশপাশের মাঠের ঘাস ও খড় বিষাক্ত করে তুলছে। এতে গবাদিপশু মারা যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ সিসা কারখানার দূষণে গরু মারা যাওয়ার একাধিক ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরে তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
কারখানার শ্রমিকরা জানান, এখানে কাজ করতে গিয়ে তারাও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন। তবে জীবিকার তাগিদে বাধ্য হয়ে কাজ করছেন। কারখানার মালিক মো. আতাউর রহমান স্বীকার করেন, তাদের কোনো পরিবেশগত ছাড়পত্র নেই। এর আগে ২০২৫ সালে একবার ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
এদিকে সচেতন মহল অবিলম্বে কারখানাটি উচ্ছেদ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তারা পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News