বরগুনা প্রতিনিধি: বরগুনার পাথরঘাটায় মারিয়া (১৫) নামে এক কিশোরীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনাকে ঘিরে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে দাফনের সময় তার মা নাসিমা বেগমের হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পাথরঘাটা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের একটি ভাড়া বাসা থেকে মারিয়ার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত মারিয়া কালোমেঘা ইউনিয়নের কালিবাড়ি গ্রামের মৃত নাসির তালুকদারের মেয়ে। তিনি তার মা নাসিমা বেগমের সঙ্গে শহরের শাহ আলম মাস্টারের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় মারিয়া তার মাকে মোবাইলে টাকা রিচার্জ করার জন্য দোকানে পাঠান। পরে বাসার বারান্দায় ফ্যানের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পাওয়া যায়। স্থানীয়দের প্রাথমিক ধারণা, এটি আত্মহত্যা হতে পারে।
তবে এ মৃত্যুকে ঘিরে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন নিহতের মা নাসিমা বেগম। তিনি অভিযোগ করেন, রুহুল আমিন নামে এক যুবকের সঙ্গে তার মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং সেই সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরে তাকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়ে থাকতে পারে।
খবর পেয়ে পাথরঘাটা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে বরগুনা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার রাতে দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
কিন্তু দাফনের সময় হঠাৎ করেই কবরস্থান থেকে নিখোঁজ হয়ে যান নাসিমা বেগম। পরে তাকে খুঁজে না পেয়ে পুলিশ লাশ থানায় নিয়ে যায়, যা ঘটনায় নতুন করে রহস্যের জন্ম দেয়।
পরদিন বুধবার সকালে পুলিশ নাসিমা বেগমকে উদ্ধার করে পুনরায় কবরস্থানে নিয়ে আসে এবং পরে মারিয়ার দাফন সম্পন্ন করা হয়।
এ বিষয়ে পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এনামুল হক জানান, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য বিরাজ করছে। স্থানীয়রা মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News