মহিবউল্লাহ কিরন, বরগুনা প্রতিনিধি: বরগুনার আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তীব্র জনবল সংকট ও চিকিৎসা সরঞ্জামের অচলাবস্থায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগী ও তাঁদের স্বজনরা। সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের বারান্দা ও মেঝেতে রোগীদের ভিড়। শয্যা সংকটের কারণে অনেক রোগীকে মেঝেতেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। পাশাপাশি এক্স-রে ও ইসিজি মেশিন দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকায় প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রোগীদের বাইরে যেতে হচ্ছে। এতে বাড়তি অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি দুর্ভোগও বাড়ছে। পর্যাপ্ত ওষুধ না থাকায় অনেক রোগীকে বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ৩১টি অনুমোদিত চিকিৎসক পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৩ জন। নার্স ও চতুর্থ শ্রেণির ৩১টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত ১৬ জন। ১০টি অনুমোদিত অফিস সহায়ক পদের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন মাত্র দুজন। এছাড়া আয়া পদে দুজন অনুমোদিত থাকলেও বর্তমানে কোনো কর্মী নেই। একজন অনুমোদিত এমটি-ল্যাব কর্মকর্তা পদেরও বিপরীতে কেউ কর্মরত নেই।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগীর স্বজন বলেন, “ডাক্তার ও নার্স আছে অল্প। সেবা পাইতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াইয়া থাকা লাগে।” আরেক রোগীর স্বজন বলেন, “বেড নাই, বারান্দায় থাকতে হয়। টেস্ট করাইতে বাইরে যাওয়া লাগে। ঔষধও বাহির থেকে কিনতে হয়।” আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হিমেল পাল বলেন, “জনবল সংকটের কারণে আমরা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানো হয়েছে। দ্রুত জনবল নিয়োগ দিলে রোগীদের সেবার মান বাড়বে।”
স্থানীয়দের দাবি, জনবল সংকট নিরসনে দ্রুত শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে অচল এক্স-রে ও ইসিজি মেশিনসহ অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জাম সচল করতে হবে। এতে আমতলীসহ আশপাশের এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News