বরগুনা জেলা প্রতিনিধি: সাহিত্য-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে নির্মাণ করা হয়েছিল বরগুনার প্রায় ৫০০ আসনের পৌর অডিটরিয়াম মিলনায়তন (টাউন হল)। তবে নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার আট বছর পরও পুরোপুরি শেষ হয়নি ভবনটির কাজ। দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকায় দরজা-জানালাসহ বিভিন্ন অংশ খুলে নিয়ে যাচ্ছে দুর্বৃত্তরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবনটি এখন গরু-ছাগলের খোঁয়াড় ও মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে। বরগুনা পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, শহরের সিরাজউদ্দীন সড়কে টাউন হল নির্মাণের কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালের মার্চে। প্রায় ৭ কোটি ২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন প্রকল্পটির কাজ ২০২০ সালের মার্চে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০২২ সালের দিকে প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ করে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে ভবনটি অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। বরগুনায় ২০টির বেশি সক্রিয় সাংস্কৃতিক সংগঠন রয়েছে। দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সভা-সেমিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য টাউন হল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কাজ শেষ না হওয়ায় এর কোনো সুফল পাচ্ছেন না সাংস্কৃতিক সংগঠন ও পৌরবাসী। খেলাঘর বরগুনা জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রাসেল মাহমুদ বলেন, সাংস্কৃতিক চর্চা ও বিকাশের লক্ষ্যেই টাউন হল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের জন্য আলাদা কক্ষ দেওয়ার পরিকল্পনাও ছিল। কিন্তু কাজ শেষ না হওয়ায় ভবনটি কোনো কাজে আসছে না। জেলা শ্রমিক আন্দোলনের সাবেক সভাপতি গোলাম হায়দার স্বপন বলেন, টাউন হলটি সম্পূর্ণ করা হলে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর সভা-সমাবেশসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন সহজ হতো। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনটি এভাবে পড়ে থাকায় জনসাধারণের অর্থের অপচয় হচ্ছে। স্থানীয়দের দীর্ঘ দিনের অভিযোগ, অরক্ষিত ভবনটির বিভিন্ন অংশ চুরি হয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে নির্জনতার সুযোগ নিয়ে সেখানে মাদকসেবীদের আড্ডা বসে। ভবনের বিভিন্ন কক্ষ গরু-ছাগল রাখার খোঁয়াড় হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে!!
বরগুনা পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাছুম বিল্লাহ বলেন, নির্মাণকাজ শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। ঠিকাদার ইতোমধ্যে প্রায় ৪ কোটি টাকা বিল নিয়েছেন। কাজ শুরু হলে প্রশাসক বা মেয়র প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা করবেন। বরগুনা পৌর প্রশাসক সজল চন্দ্র শীল বলেন, ঠিকাদারকে একাধিকবার অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনো তাঁরা বাকি কাজ শুরু করেননি!
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News