জাহাঙ্গীর কবীর মৃধা, বরগুনা প্রতিনিধি: বরগুনার আমতলী উপজেলার কুকুয়া আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে চরম ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে চলছে পাঠদান। প্রায় পাঁচ দশক আগে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়ের প্রধান ভবনটি বর্তমানে অত্যন্ত জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকলেও তা পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়নি। ফলে প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী ও শিক্ষক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শ্রেণিকক্ষে অবস্থান করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ৫০ বছর পার হলেও বিদ্যালয়টি সরকারি কোনো নতুন ভবন কিংবা টেকসই অবকাঠামো সুবিধা পায়নি। যে দ্বিতল ভবন দিয়ে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল, সেটিই এখন মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে, বেরিয়ে এসেছে মরিচাধরা রড। বৃষ্টির সময় ছাদ চুইয়ে পানি পড়ায় শ্রেণিকক্ষগুলো পাঠদানের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ভবনের বিভিন্ন অংশ দেখে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অবহিত করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বিকল্প ভবন না থাকায় বাধ্য হয়েই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, ভবনটির অবস্থা এতটাই নাজুক যে যেকোনো সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তারা দ্রুত ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর দাবি, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে জরুরিভিত্তিতে সরকারি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। অন্যথায় ভবিষ্যতে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বহন করতে হবে।
শিক্ষার্থীদের নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে এখনই প্রয়োজন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ ও আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News