স্বাক্ষর জালিয়াতি ও গোপনে নিয়োগ—অমতলী বরগুনা।
নিজস্ব প্রতিবেদক, আমতলী (বরগুনা): বরগুনার আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের তত্তাবুনিয়া নেছারিয়া দাখিল মাদ্রাসায় আয়া ও নিরাপত্তাকর্মী পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে ১৪ লাখ টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির সুপার ও সভাপতির বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা ও সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১০ মার্চ ২০২৬ তারিখে ৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি নিয়োগ কমিটি গঠন করা হয়। তবে কমিটির সদস্য নয়ন মিয়া দাবি করেন, এ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। তার অভিযোগ, সভাপতি ও সুপার টাকার বিনিময়ে গোপনে আয়া পদে আখিনুর তুলি এবং নিরাপত্তাকর্মী পদে কাতার প্রবাসী মো. আলামিনকে নিয়োগ দিয়েছেন। এমনকি তার স্বাক্ষর জাল করে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে।
এ বিষয়ে এডভোকেট কাদের মিয়া বলেন, তিনি প্রতিষ্ঠানটির জমিদাতা ও সাবেক সভাপতি হলেও বর্তমান কমিটিতে থেকে এ নিয়োগ সম্পর্কে কিছুই জানেন না। অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহিম অভিযোগ করে বলেন, প্রায় ১৪ লাখ টাকার বিনিময়ে এই দুটি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এলাকায় অনেক শিক্ষিত ও যোগ্য প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও কোনো প্রকার প্রকাশ্য বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই গোপনে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন কাতার প্রবাসী মোহাম্মদ আল আমিনকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে প্রতিষ্ঠানের এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের মেয়েকেও টাকার বিনিময়ে চাকরি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগের বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার মো. হারুন অর রশিদ বলেন, “আমি অসুস্থ, এ বিষয়ে সভাপতি সব জানেন।”
অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি মো. আবু জাফর অনিয়মের বিষয়টি আংশিক স্বীকার করে বলেন, “বিভিন্ন খরচসহ আমরা কিছু টাকা নিয়েছি। আমাদের প্রতিষ্ঠানের ক্লাসরুম ভেঙে গেছে, মেরামতের জন্য এই অর্থ নেওয়া হয়েছে।”
এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, এ ধরনের কোনো অভিযোগ এখনো তার কাছে আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গোপন নিয়োগ, মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেন ও স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত তদন্ত ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News