বিশেষ প্রতিবেদন: বঙ্গোপসাগরের উত্তাল ঢেউ ও নদীর প্রবল স্রোতে ক্রমেই বদলে যাচ্ছে বরগুনার উপকূলের চিত্র। সদর, তালতলী, পাথরঘাটা ও আমতলী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নদী ও সাগরের ভাঙনে সৈকত, ঝাউবন, বেড়িবাঁধ, বসতভিটা ও কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিষখালী নদীর অব্যাহত ভাঙনে নলটোনা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঝুঁকিতে রয়েছে। একই সঙ্গে তালতলীর শুভসন্ধ্যা সৈকত ও সংলগ্ন ঝাউবনে ভাঙনের প্রভাব পড়েছে। ঢেউয়ের আঘাতে বালু সরে গিয়ে গাছের শিকড় বেরিয়ে পড়ছে এবং অনেক গাছ উপড়ে যাচ্ছে। লালদিয়া চরেও ভাঙন পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। অস্বাভাবিক জোয়ার, ঘূর্ণিঝড় ও নিম্নচাপের সময় ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়ছে। বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলে লোকালয়ে পানি ঢুকে বসতবাড়ি ও ফসলি জমি প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি লবণাক্ততার কারণে কৃষি ও মিঠাপানির উৎস ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল হান্নান প্রধান জানান, জেলার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বাঁধ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙন ঠেকাতে নেওয়া জরুরি ও সাময়িক ব্যবস্থা অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না। পরিবেশবিদদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় শুধু বাঁধ মেরামত নয়—নদী ও সাগরের ভাঙন পর্যবেক্ষণ, টেকসই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ঝাউবন-ম্যানগ্রোভ সংরক্ষণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনপদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News