বরগুনা জেলা প্রতিনিধি: বরগুনায় মাদক ও অপরাধবিরোধী বিশেষ অভিযানে ছয় দিনে ২১৩ জন কিশোর-কিশোরীকে আটক করে কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে অভিভাবকদের জিম্মায় দিয়েছে জেলা পুলিশ। একই সময়ে মাদকবিরোধী অভিযানে ২৬ জনকে গ্রেপ্তার এবং ৭৩০ পিস ইয়াবা, ৪ কেজি ১৮০ গ্রাম গাঁজা ও আট পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে বরগুনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুকিত হাসান খান এসব তথ্য জানান। পুলিশ জানায়, গত ২৩ থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন থানা ও গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) মোট ৫২৯টি অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ১৯টি মাদক মামলায় ২৯ জনকে আসামি করা হয়। অভিযানে মাদক বিক্রির টাকা জব্দ করা হয়েছে।
এদিকে, বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলো থেকে মা ও তাঁর দুই শিশুকন্যার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ঋণের চাপ ও আর্থিক সংকটকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখছে পুলিশ। তবে পুলিশের প্রাথমিক ধারণার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ করেছেন মামলার বাদী স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস। সংবাদ সম্মেলনে বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুকিত হাসান খান জানান, সিসিটিভি ফুটেজ, সাক্ষ্যপ্রমাণ ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই আদালতে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। ৩ মার্চ ২০২৬ ডাকবাংলোর তৃতীয় তলার দুটি কক্ষ থেকে ইতি রানী বিশ্বাস (৩৪) এবং তাঁর দুই মেয়ে আরাধ্যা (১২) ও অনুরাধার (৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, পরিবারটির মোট ঋণের পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৭ হাজার ৭২৩ টাকা। ঋণের কিস্তি ও সংসারের আর্থিক অনটন ইতি রানীর হতাশার কারণ হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের তথ্য অনুযায়ী, ইতি রানীর মৃত্যু বেঞ্জোডায়াজেপিন- জাতীয় রাসায়নিকের বিষক্রিয়ায় হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে। দুই শিশুর ক্ষেত্রে রাসায়নিকের বিষক্রিয়ার পাশাপাশি আঘাতজনিত শ্বাসরোধের তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ইতি রানী দুই সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।
অন্যদিকে, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় অবমাননাকর ও উসকানিমূলক পোস্ট প্রকাশের অভিযোগে তপন চন্দ্র (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে ঢাকার মিরপুরের কল্যাণপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার সকালে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তপন চন্দ্র বরগুনা সদর উপজেলার ১ নম্বর বদরখালী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পাতাকাটা গ্রামের বাসিন্দা। এ সময় তাঁর ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত চলমান।
বরগুনা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, মাদক ও অপরাধ দমন, কিশোর অপরাধ প্রতিরোধ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ অভিযান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News