বেতাগী প্রতিনিধি: বরগুনার বেতাগী পৌরশহরকে বিষখালী ও পায়রা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষায় চলমান বৃহৎ নদীতীর সংরক্ষণ ও পোল্ডার পুনর্বাসন প্রকল্পে নতুন করে আরও ২২০ মিটার নদীতীর সংরক্ষণ কাজ যুক্ত হয়েছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) বরগুনা পানি উন্নয়ন বিভাগ এ কাজের জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে। সরকারি ই-জিপি তথ্য অনুযায়ী, পোল্ডার ৪১/৭এ-এর ৯.৮৮০ থেকে ১০.১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত এ ২২০ মিটার নদীতীর সংরক্ষণ করা হবে। এর আগে একই এলাকায় ১০.১০০ থেকে ১০.৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত ৪০০ মিটার নদীতীর সংরক্ষণ কাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন অংশে পর্যায়ক্রমে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রায় ৮২৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির আওতায় পোল্ডার ৪১/৬এ, ৪১/৬বি ও ৪১/৭এ পুনর্বাসন, নদীতীর সংরক্ষণ, বাঁধের ঢাল রক্ষা, বাঁধ পুনরাকৃতিকরণ ও খাল পুনঃখননসহ বিভিন্ন কাজ রয়েছে। প্রকল্পের প্রায় ৪৪ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বেতাগী পৌরশহর, ফুলঝুড়ি বাজার ও জাঙ্গালিয়া এলাকার নদীতীরকে ভাঙনপ্রবণ গুরুত্বপূর্ণ স্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, নদীর স্রোত, জোয়ার-ভাটা ও বর্ষায় তীব্র ভাঙনের কারণে বসতবাড়ি, সড়ক, বাজার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ঝুঁকিতে রয়েছে। ২০২২ সালে প্রায় ৪০৪ কোটি টাকা ব্যয়ে শুরু হওয়া প্রকল্পটি পরবর্তীতে সংশোধনের মাধ্যমে প্রায় ৮২৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকায় উন্নীত হয়েছে। প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধির কারণ ও নতুন করে যুক্ত হওয়া কাজের বিষয়ে স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, বরগুনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান বলেন, বেতাগী শহর ও ঝুঁকিপূর্ণ নদীতীর রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। টেকসইভাবে কাজ বাস্তবায়নের পাশাপাশি নির্মাণকাজের মান নিশ্চিত করতে তদারকি অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নির্ধারিত নকশা ও প্রকৌশলগত মান বজায় রেখে দ্রুত কাজ শেষ করার পাশাপাশি প্রকল্প-পরবর্তী নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা হবে। নতুন ২২০ মিটারসহ চলমান নদীতীর সংরক্ষণ কাজ শেষ হলে বেতাগী শহর ও আশপাশের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো কতটা ভাঙনমুক্ত ও নিরাপদ হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News