সাইফ সোহেল | বিশেষ সংবাদদাতা: বরগুনা, ১৬ আগস্ট ২০২৬: সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথিপত্রের ভিত্তিতে দীর্ঘ শুনানি শেষে বাবার দায়ের করা মামলায় দুই পুত্রকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন বরগুনার একটি আদালত। রোববার বরগুনা জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৪-এর বিচারক রানা শেখ এ রায় ঘোষণা করেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, বরগুনা পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বঙ্গবন্ধু সড়কের বাসিন্দা প্রায় ৭১ বছর বয়সী মো. আবদুল বাছেদ বাচ্চু তার দুই ছেলে মো. আবুল কালাম আজাদ ও মো. সালাউদ্দিন দুলালের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। পারিবারিক সম্পত্তি বণ্টনকে কেন্দ্র করে তাকে ও তার বিদেশফেরত দুই কন্যাকে মারধর এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগের পর বরগুনা থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। পরবর্তীতে পুলিশের তদন্ত ও আদালতের অনুমোদনের ভিত্তিতে পেনাল কোডের ৩২৩ ও ৫০৬-এর দ্বিতীয় অংশের ধারায় নন-জি.আর প্রসিকিউশন দাখিল করা হয়।
মামলার শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণের সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. সাইফুল ইসলাম সোহেল অভিযোগের বিভিন্ন অসঙ্গতি আদালতের সামনে তুলে ধরেন। তার দাবি, ঘটনার তারিখ ও সময় নিয়ে অসঙ্গতি, অভিযোগে বাদীর কন্যাদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন, চিকিৎসা সনদের অনুপস্থিতি এবং সাক্ষীদের জবানবন্দিতে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য মামলাটিকে সন্দেহের মধ্যে ফেলে।
আদালতে উপস্থাপিত নথিপত্র, সাধারণ ডায়েরি, তদন্ত প্রতিবেদন, সাক্ষীদের জবানবন্দি ও জেরার বিষয়গুলো পর্যালোচনা শেষে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেন। আসামিপক্ষের দাবি, পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে তাদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা করা হয়েছিল। তাদের আরও অভিযোগ, পারিবারিক সম্পত্তি ও আর্থিক বিষয় নিয়ে বিরোধের জেরে তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হয়ে আসছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা আদালতের এই রায়ে নির্ধারিত হয়েছে—এমন দাবি করা হয়নি। রায়ের পর মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, “মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া। সত্য আজ প্রমাণিত হয়েছে এবং আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি।” অন্য আসামি মো. সালাউদ্দিন দুলাল বলেন, “আমরা এই রায়ে অত্যন্ত সন্তুষ্ট। আল্লাহর কাছে একটাই প্রার্থনা, তিনি যেন আমাদের বাবাকে সঠিক হেদায়েত দান করেন।”
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. সাইফুল ইসলাম সোহেল বলেন, “একজন পিতা যখন সন্তানদের বিরুদ্ধে মামলা করেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের সহানুভূতি তার প্রতি থাকে। কিন্তু আদালতে সিদ্ধান্ত হয় সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত আসামিদের বেকসুর খালাস দিয়েছেন।” রায়ের মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচারিক নিষ্পত্তি হয়েছে। পারিবারিক বিরোধের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে অভিযোগের পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথিপত্রের গুরুত্বও এ মামলার রায়ে উঠে এসেছে।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News