ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের মৌসুম সামনে রেখে বরগুনার উপকূলীয় এলাকার লাখো মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন। তালতলী, পাথরঘাটা, আমতলী, বেতাগী ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিনের নদীভাঙন, জোয়ারের চাপ ও অপর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণে বাঁধের কোথাও ভাঙন, ধস, নিচু হয়ে যাওয়া কিংবা বিলীন হওয়ার চিত্র দেখা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর দুর্যোগের আগে মাটি ও জিওব্যাগ ফেলে বাঁধের সাময়িক সংস্কার করা হলেও কিছুদিন পর জোয়ার ও নদীভাঙনে তা আবার দুর্বল হয়ে পড়ে। এতে ঘূর্ণিঝড়ের সময় পানি প্রবেশ, ফসলহানি, বসতবাড়ি ও গবাদিপশুর ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়।
উপকূলবাসীর দাবি, জরুরি মেরামত ও দুর্যোগ-পরবর্তী ত্রাণের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় টেকসই ও শক্তিশালী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে। নদীতীর সংরক্ষণ, বাঁধের ঢাল শক্তিশালীকরণ, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণও নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত বরাদ্দ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।
উপকূলবাসীর প্রত্যাশা, জেলার ৮০৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের পূর্ণাঙ্গ সমীক্ষা করে ঝুঁকিপূর্ণ অংশ চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টেকসই সংস্কার ও নির্মাণ করা হবে। তাদের একটাই দাবি—ঝড়ের পর ত্রাণ নয়, ঝড়ের আগেই নিরাপদ ও টেকসই বেড়িবাঁধ।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News