দেশে হাম সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের বিভিন্ন জেলার ৩০টি উপজেলা ও পৌর এলাকাকে হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তালিকার শীর্ষে রয়েছে বরগুনা, পাবনা ও চাঁদপুর। বরগুনায় ইতোমধ্যে শতাধিক রোগী শনাক্ত হওয়ার পাশাপাশি তিন শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে প্রকাশিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তালিকায় দেখা গেছে, বরগুনা, পাবনা ও চাঁদপুর জেলায় সংক্রমণের হার ও ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষাগারে পাঠানো নমুনার প্রায় ৩০ শতাংশে হামের উপস্থিতি শনাক্ত হচ্ছে। এতে শিশুদের পাশাপাশি বয়স্করাও আক্রান্ত হচ্ছেন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো রোগীদের মধ্যে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
এদিকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের স্বজনদের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ওষুধের ঘাটতি রয়েছে। প্যারাসিটামল ছাড়া অধিকাংশ ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে, যা অনেক পরিবারের জন্য আর্থিকভাবে কষ্টকর হয়ে উঠেছে।
সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের বাসিন্দা আলেয়া বেগম বলেন, “আমার ছেলে তিন দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি। প্যারাসিটামল ছাড়া কোনো ওষুধ দেয় না। সব ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে, যা আমাদের জন্য খুব কষ্টকর।”
একই অভিযোগ করে ঢলুয়া এলাকার শিউলি বেগম বলেন, অসুস্থ শিশুর চিকিৎসার জন্য চার দিনে প্রায় পাঁচ হাজার টাকার ওষুধ কিনতে হয়েছে।
বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ বলেন, “হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বরগুনা সদর উপজেলাকে ‘রেড জোন’ ঘোষণা করা হয়েছে।

দৈনিক শেষকথা Seshkatha News