অলিউল্লাহ্ ইমরান, বরগুনা প্রতিনিধি: বরগুনার আমতলী উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে এখনো কাদা মাড়িয়েই চলাচল করতে হয় হাজারো মানুষকে। বছরের পর বছর ধরে জনপ্রতিনিধিদের আশ্বাস মিললেও বাস্তবে উন্নয়ন ছোঁয়া লাগেনি গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কে। ফলে শিক্ষার্থী, কৃষক, কর্মজীবী মানুষ এবং রোগী পরিবহনে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এই সড়কটি দ্রুত সংস্কার বা পাকা করা হলে সকল মানুষের দুর্ভোগ কমে আসবে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চাওড়া এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে কাঁচা ও চলাচলের অনুপযোগী অবস্থায় রয়েছে। চাওড়া-চলাভাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে চাওড়া-লোদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত বিস্তৃত এই সড়কটি এলাকার প্রায় দুই হাজার মানুষের একমাত্র যাতায়াত পথ।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে দুইটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীরাও যাতায়াত করে। বর্ষা মৌসুমে সড়কজুড়ে কাদা ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় স্কুলগামী শিশুদের চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। এছাড়া অসুস্থ রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়াও অনেক সময় সম্ভব হয়ে ওঠে না।
শিক্ষার্থী আলিফ ও আরিচাসহ কয়েকজন জানান, বৃষ্টি হলেই রাস্তাটি কাদায় একাকার হয়ে যায়। অনেক সময় পিছলে পড়ে যেতে হয়। স্কুলে যাওয়া-আসা করতে তাদের চরম কষ্ট হয়। দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার করার দাবি জানায় তারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি পাকা করার দাবি জানিয়ে আসলেও এখনো কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে।
চাওড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আখতারুজ্জামান বাদল খান বলেন, সড়কটি এলাকার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে উন্নয়ন প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সড়কটির উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। রাস্তাটি উন্নয়ন হলে কয়েকটি গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, গ্রামীণ জনগণের চলাচল সহজ করা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা আমাদের অগ্রাধিকার। চাওড়া এলাকার সড়কটির বিষয়টি আমরা জেনেছি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে উন্নয়নের সম্ভাব্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পর্যায়ক্রমে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ কাঁচা সড়কগুলো উন্নয়নের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News