তালতলী প্রতিনিধি: বিশ্ব পানিতে ডোবা প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে বরগুনার তালতলীতে সাঁতার ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘যে কেউ পানিতে ডুবে যেতে পারি, সবাই মিলে প্রতিরোধ করি’— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গত বুধবার (২২ জুলাই) উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ আয়োজন করা হয়।
সকাল ১১টায় অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম। উদ্বোধনের পর ‘নিরাপদে ভাসা’ প্রকল্পের আওতায় সাঁতার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সাতটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সাঁতার প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। পরে আলোচনা সভায় বক্তারা শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে অভিভাবকদের সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে ছয় বছর বয়স থেকে দক্ষ প্রশিক্ষকের মাধ্যমে শিশুদের সাঁতার শেখানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। আলোচনা শেষে পানিতে ডোবা প্রতিরোধ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের আঁকা চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয় এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি)। যুক্তরাজ্যের রয়্যাল ন্যাশনাল লাইফবোট ইনস্টিটিউশন এবং প্রিন্সেস শার্লিন অব মোনাকো ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহযোগিতায় বাস্তবায়িত ‘নিরাপদে ভাসা’ প্রকল্পের আওতায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকেরা জানান, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে রাখা এবং ছয় বছর বয়স পূর্ণ হলে প্রশিক্ষিত প্রশিক্ষকের মাধ্যমে সাঁতার শেখানোর বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। তাদের দাবি, সিআইপিআরবির ধারাবাহিক কার্যক্রম ও সাঁতার প্রশিক্ষণের ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আল-মাসুম, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা সজিব চন্দ্র বিশ্বাস, ইন্টারন্যাশনাল ড্রাউনিং প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ ডিভিশনের উপপরিচালক আবুল বারাকাত এবং তালতলী ‘নিরাপদে ভাসা’ প্রকল্পের এরিয়া কো-অর্ডিনেটর রজত জ্যোতি সেনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News