কাশেম হাওলাদার, বরগুনা প্রতিনিধি: বরগুনার তালতলী উপজেলার পচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নে জেলেদের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। বরাদ্দ, বিতরণ ও মজুতের হিসাবে অসংগতি, মাস্টাররোল না থাকা এবং চাল সরবরাহের নথিতে কাটাকাটির ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে স্বচ্ছতা নিয়ে। এদিকে, অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানে গিয়ে সাংবাদিকদের অর্থ দিয়ে ম্যানেজ করার চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ইউনিয়নের ৫৮০ জন জেলের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ১৪ দশমিক ৫ মেট্রিক টন চাল। গত ১০ অক্টোবর চাল ইউনিয়ন পরিষদে আনা হলেও সরেজমিনে গোডাউনে পাওয়া গেছে মাত্র ৮৭ বস্তা বা ৪ টন ৩৫০ কেজি চাল। বিতরণ করা চালের সুনির্দিষ্ট হিসাব ও মাস্টাররোল দেখাতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্যানেল চেয়ারম্যান রুহুল আমীন মুন্সি দাবি করেন, সদস্যদের কাছে চাল বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, চাল বিতরণের দায়িত্বে থাকা ইউপি সদস্য ককন মেম্বার সঠিক হিসাব ও বিতরণের প্রমাণপত্র দেখাতে পারেননি। তিনি বিতরণ প্রক্রিয়ায় ভুল হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় সাংবাদিকদের অর্থ দিয়ে ম্যানেজ করার চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে। তালতলী খাদ্যগুদামের চাল বিতরণ বহিতে ১৪ টন ৫০০ কেজি চাল সরবরাহের তথ্য পাওয়া গেলেও কাটাকাটির মাধ্যমে পরিমাণ পরিবর্তনের চিহ্ন দেখা গেছে। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় ডিউ লেটার ছাড়াই চাল সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব বিষয়ে খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোসা. নাবিলা আক্তার বক্তব্য দিতে রাজি হননি। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযোগের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হয়েছে এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বরগুনার জেলা প্রশাসক মিজ্ তাছলিমা আক্তার বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জেলেদের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি সহায়তার চাল বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং বরাদ্দ, মজুত ও বিতরণের প্রকৃত হিসাব উদ্ঘাটনে দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News