বরগুনা জেলা প্রতিনিধি: নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বরগুনা জেলা শাখার সভাপতি রেজাউল কবির রেজার নেতৃত্বে ১৫ আগস্টের কর্মসূচি দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া একটি ভিডিও নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। পুলিশ বলছে, ভিডিওটি পুরোনো এবং ১৫ আগস্ট বরগুনা শহরে ছাত্রলীগের কোনো মিছিল বা সমাবেশ হয়নি। তবে ছাত্রলীগের জেলা সভাপতি রেজাউল কবির রেজা ভিডিওটি ১৫ আগস্টের বলে দাবি করেছেন।
গত শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে রেজাউল কবির রেজার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ১ মিনিট ৫৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। ভিডিওতে ৩০ থেকে ৪০ জন নেতা-কর্মীকে বরগুনা শহরের ফার্মেসি পট্টিতে মিছিল করতে দেখা যায়। পরে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করতেও দেখা যায় তাঁদের। ভিডিওতে ‘অ্যাকশন অ্যাকশন’, ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’, ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘আজকের এই দিনে মুজিব তোমায় মনে পড়ে’ এবং ‘শেখ হাসিনা ভয় নেই, রাজপথ ছাড়িনি’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে শোনা যায়। ভিডিওটি প্রকাশের পর রেজাউল কবির রেজা দাবি করেন, নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এবার ছোট পরিসরে কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। তিনি তাঁর ফেসবুক পোস্টে শিগগিরই বড় পরিসরে মিছিল করার কথাও জানান!
তবে পুলিশের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু শাহাদাৎ হাসনাইন পারভেজ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি পুরোনো। ১৫ আগস্ট ২০২৬-এ বরগুনা শহরে ছাত্রলীগের কোনো মিছিল বা সমাবেশ হয়নি। ওসি বলেন, ‘এটি আগের ভিডিও। গতকাল কোনো ছাত্রলীগের বরগুনা শহরে মিছিল হয়নি। শনিবার ১৫ আগস্টে ভোর সাড়ে ৫টা থেকে পুলিশ বাহিনী নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান যেমন আমতলার পার এবং খারাকান্দা এলাকায় দায়িত্ব পালন করছে। পুরোনো ভিডিও ছেড়ে মানুষকে বিভ্রান্তিতে ফেলা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বরগুনা শহরে ছাত্রলীগ কোনো মিছিল-মিটিং করেছে—এ কথা কেউ বলতে পারবে না। পুলিশ সব সময় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।’
অন্যদিকে রেজাউল কবির রেজা পুলিশের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘ভিডিওটি আজকের। দুপুরে আমার ফেসবুকে ভিডিওটি দিয়েছি।’ তাঁর দাবি, এর আগেও তিনি বেতাগী শহরে মিছিল করেছেন!'
রেজাউল কবির রেজা আরও দাবি করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকেই তাঁদের আন্দোলন-সংগ্রাম অব্যাহত রয়েছে এবং জাতীয় শোক দিবসে তাঁরা ঘরে বসে থাকতে পারেন না।
তবে পুলিশের দাবি অনুযায়ী, ১৫ আগস্ট ২০২৬ বরগুনা শহরে পুলিশের নজরদারি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল। সকাল সাড়ে ৫টা থেকেই আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে পুলিশ দায়িত্ব পালন করছিল। এ অবস্থায় শহরে ছাত্রলীগের মিছিল হওয়ার দাবি পুলিশের বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
পুলিশের দাবি, পুরোনো ভিডিওকে নতুন হিসেবে প্রচার করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে। অন্যদিকে ছাত্রলীগের সভাপতি এটিকে ১৫ আগস্টের কর্মসূচির ভিডিও বলে দাবি করছেন।
ভিডিওটির প্রকৃত সময় নির্ধারণে এর মূল উৎস, ধারণের তারিখ, স্থান এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। তবে প্রাথমিকভাবে এটিকে ২০২৬ সালের ১৫ আগস্টের নতুন কর্মসূচির ভিডিও হিসেবে নিশ্চিতভাবে দাবি করার সুযোগ খুব কম বলে ধারণা করা যাচ্ছে ---
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News