দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ বরগুনা–বাকেরগঞ্জ–বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়কটি যেনো ঝুঁকি ও দীর্ঘস্থায়ী ভোগান্তির প্রতীকে পরিণত হয়েছে। প্রায় ৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কে অন্তত ৫১টি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক থাকায় প্রতিনিয়ত সরক দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে। আঞ্চলিক মহাসড়কে উন্নীত হলেও মাত্র ১৮ ফুট প্রশস্ত সরু রাস্তার কারণে পরিবহন চলাচলে সৃষ্টি হচ্ছে চরম বিঘ্ন।
কুয়াকাটা–ঢাকা মহাসড়কের বাকেরগঞ্জ পয়েন্ট থেকে শুরু হওয়া এই সড়কটি বরগুনা, মির্জাগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জের মানুষের প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম। প্রতিদিন অন্তত ৩০০টি যাত্রীবাহী বাসসহ অসংখ্য পণ্যবাহী যানবাহন এ পথে চলাচল করে।
এদিকে পায়রা সেতুতে ওজন সীমা নির্ধারণ করে দেওয়ায় ৩০ টনের বেশি ভারী ট্রাকগুলো বিকল্প হিসেবে এই সরু সড়কটি ব্যবহার করছে। এতে সড়কের বিভিন্ন ব্রিজ ও কালভার্ট মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশে ২৮টি স্থানে যানবাহনের ওজন মাপার স্কেল থাকলেও বরগুনায় এমন কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে অতিরিক্ত বোঝাই যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
স্থানীয় বাসচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, “বরগুনা থেকে বরিশাল যেতে ৫১টি বিপজ্জনক বাঁক পার হতে হয়। অনেক সময় সামনে কী আছে তা বোঝার আগেই হঠাৎ বাঁক চলে আসে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।”
জেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি সাংবাদিক মনির হোসেন কামাল দ্রুত সড়কটিতে ওজন মাপার স্কেল স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বরগুনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সোহেল হাফিজ বলেন, দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণেই বরগুনা উন্নয়নের দিক থেকে পিছিয়ে রয়েছে। একটি প্রশস্ত ও নিরাপদ সড়ক এখন সময়ের দাবি।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মহাসড়কটি প্রশস্তকরণ ও বিপজ্জনক বাঁক সরলীকরণের একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি মহাসড়কটিকে চার লেনে উন্নীত করার লক্ষ্যে সমীক্ষা চালানো হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি ও পর্যটনে গতি আনতে এই মহাসড়কের আধুনিকায়ন অত্যন্ত জরুরি। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News