বিশেষ প্রতিবেদন: বরিশাল বিভাগে গত পাঁচ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ২ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা ফাউন্ডেশনের (বিআরএসএফ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিভাগে মোট ২ হাজার ২৭৬টি দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৩৮৭ জন নিহত হন। দুর্ঘটনার অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ককে চিহ্নিত করেছেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।
সর্বশেষ গত ২০ সেপ্টেম্বর পটুয়াখালীর বসাক বাজারসংলগ্ন ধুলু গাজী মোড়ে ইমরান ট্রাভেলসের বাসের সঙ্গে একটি অটোরিকশার সংঘর্ষে চারজন নিহত ও অন্তত ১০ জন আহত হন। নিহতরা সবাই অটোরিকশার যাত্রী। সংশ্লিষ্টদের মতে, পদ্মা সেতু চালুর পর মহাসড়কটিতে যানবাহনের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগে যেখানে দৈনিক ১৬ থেকে ১৯ হাজার যানবাহন চলাচল করত, বর্তমানে তা বেড়ে ২৫ থেকে ৩০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। অথচ ভাঙ্গা থেকে বরিশাল হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত প্রায় ২০৫ কিলোমিটার সড়কের অধিকাংশই পুরোনো ও সংকীর্ণ; কোথাও প্রস্থ মাত্র ১৮ ফুট, অধিকাংশ অংশ ২৪ ফুট।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে প্রায় ৭০টি বিপজ্জনক বাঁক রয়েছে। বিশেষ করে শাখারিয়া থেকে আমতলীর বান্দ্রা পর্যন্ত ৩৭ কিলোমিটার অংশে অন্তত ১৭টি তীক্ষ্ণ বাঁক রয়েছে। বাঁকের পাশাপাশি রাস্তার পাশে বাজার, অনুমোদনহীন তিন চাকার যান, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ড এবং ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর মহাসড়কটি ২৪ ফুট থেকে ৩৪ ফুট পর্যন্ত প্রশস্ত করার প্রস্তাব করেছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে বিপজ্জনক বাঁকগুলোও যথাসম্ভব সোজা করার পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সড়ক প্রশস্তকরণ, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক সংস্কার, রাস্তার পাশের বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং অননুমোদিত যানবাহন বন্ধ করা গেলে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News