তালতলী প্রতিনিধি: বরগুনার তালতলী উপজেলার টেংরাগিরি ইকোপার্কে এক যুগের ব্যবধানে হরিণের সংখ্যা ১৪টি থেকে কমে মাত্র ৩টিতে নেমে এসেছে। ‘দ্বিতীয় সুন্দরবন’খ্যাত এই পর্যটনকেন্দ্রে একের পর এক হরিণ উধাও হওয়ার পাশাপাশি ভেঙে পড়েছে নিরাপত্তাবেষ্টনী। স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের অবহেলা, খাদ্যসংকট ও চোরা শিকারিদের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নে ২০১০-১১ ও ২০১১-১২ অর্থবছরে ২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ইকোট্যুরিজমের সুযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে পার্কটি গড়ে তোলা হয়। একসময় হরিণসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি পর্যটকদের আকৃষ্ট করলেও বর্তমানে অব্যবস্থাপনা ও বেহাল অবকাঠামোর কারণে আকর্ষণ হারাচ্ছে পার্কটি। ঢাকা থেকে আসা এক পর্যটক জানান, আগের মতো হরিণের দেখা না পেয়ে তিনি হতাশ হয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা রিয়াজুল ইসলাম ও জহিরুল ইসলাম অমিও বলেন, হরিণের আকর্ষণ কমে যাওয়ায় পর্যটকেরা হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন, যা স্থানীয় পর্যটন খাতের জন্য হুমকি।তালতলী রেঞ্জের ছকিনা বিট কর্মকর্তা রাহিমুল ইসলাম জুমেল জানান, ভাঙা বেষ্টনীর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত সংস্কারের আশা করছেন। তবে হরিণের সংখ্যা কমে যাওয়ার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি তালতলী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. জিয়াউল ইসলাম।
পার্কটির অবশিষ্ট বন্যপ্রাণী রক্ষা, নিরাপত্তাবেষ্টনী সংস্কার এবং হরিণ নিখোঁজ হওয়ার কারণ অনুসন্ধানে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News