বরগুনা জেলা প্রতিনিধি: বিএনপির বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের জানাজায় অংশগ্রহণ শেষে সামরিক হেলিকপ্টারে বরগুনায় পৌঁছেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের চারবারের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম মনি। বরগুনায় পৌঁছালে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ্ তাছলিমা আক্তার এবং পুলিশ সুপার কুদরত-ই-খুদা চিফ হুইপকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় তাঁদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি। এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক ও শিক্ষা) অনিমেষ বিশ্বাস, সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) নুরুল আমিন, বরগুনা প্রেসক্লাবের সভাপতি হাফিজুর রহমান, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব হুমায়ূন শাহিন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক, ১০ নম্বর নলটোনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুজ্জামান মাহফুজ এবং বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ্ আজিজসহ জেলা বিএনপির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
গত বুধবার (১৪ অক্টোবর ২০২৬)- দুপুরে সাত দিনের সরকারি সফরে বরগুনায় চিফ হুইপের পূর্বনির্ধারিত সরকারি কর্মসূচি যথাসময়ে পালনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে সামরিক হেলিকপ্টারের ব্যবস্থা করা হয়। এ উদ্যোগের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি ---
বরগুনায় পৌঁছে তিনি সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি, বিগত সরকারের কর্মকাণ্ড, অর্থনৈতিক সংকট ও জাতীয় পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন তিনি:
বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে চিফ হুইপ বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো বিষয়ে লংমার্চ করে সমাধান পাওয়া গেলে বিএনপিই সবার আগে লংমার্চ করত। তাঁর দাবি, পতিত আওয়ামী লীগ সরকার দেশের বিদ্যুৎ ও অর্থনীতি খাতকে ভয়াবহ সংকটের মধ্যে ফেলে গেছে। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ এমন কোনো বিষয় নয়, যা ইচ্ছা করলেই আড়াল করে রাখা যায়। বর্তমান সরকার কিংবা দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইচ্ছাকৃতভাবে জনগণকে কষ্ট দিতে চান না। বিদ্যুৎ সরবরাহ না করে জনগণের বিরাগভাজন হয়ে রাজনৈতিক ক্ষতি ডেকে আনার কোনো কারণ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, বিগত সরকারের রেখে যাওয়া অব্যবস্থাপনা ও সংকটের কারণে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিগত সরকারের সময় বিদ্যুৎ খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, সামিট গ্রুপের প্রধান এবং শেখ হাসিনার বেয়াই আজিজ খান বিদেশে অর্থ পাচার করে সিঙ্গাপুরের শীর্ষ ধনীদের তালিকায় স্থান পেয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, নামমাত্র বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন ও নিম্নমানের যন্ত্রপাতি আমদানির মাধ্যমে প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে। পায়রা বন্দরের চ্যানেল খনন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন চিফ হুইপ। তিনি দাবি করেন, এ কাজে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও চ্যানেলের গভীরতা খননের আগে ও পরে পাঁচ মিটারই রয়েছে। তিনি আরও বলেন, গত ১৬ থেকে ১৭ বছরে দেশের অর্থনীতি ও গণতান্ত্রিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমান সরকার ও বিএনপি দেশ পুনরুদ্ধারে কাজ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সাত দিনের সরকারি সফরে বরগুনায় অবস্থানকালে চিফ হুইপের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। তাঁর এ সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News