বিশেষ প্রতিবেদন: বরগুনা জেলায় এবার ১৪৭টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার মণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে ৯টি। জেলার বিভিন্ন মণ্ডপে ইতোমধ্যে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। বরগুনা সদর উপজেলার কুমরাখালী গ্রামের ২৮ বছরের পুরোনো কুমরাখালী সার্বজনীন শ্রী-শ্রী হরি মন্দিরটি শুধু ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, দীর্ঘদিন ধরে হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে পরিচিত। এছাড়াও, মন্দির প্রাঙ্গণে রয়েছে ‘অরিত্রি স্মৃতি পাঠাগার’, যার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 📚 অরিত্রী স্মৃতি পাঠাগার—স্মৃতিকে ধারণ করে জ্ঞানের আলো ছড়ানোর এক অনন্য প্রয়াস। বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলে নতুন প্রজন্মকে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই এ পাঠাগারের লক্ষ্য।
এবারের দুর্গোৎসব ঘিরে মন্দিরে চলছে প্রতিমা নির্মাণ, মণ্ডপসজ্জা ও আলোকসজ্জার কাজ। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে মহালয়ার জীবন্ত প্রতিচ্ছবি, দেশীয় কারুশিল্পে সজ্জিত প্রতিমা, আলোকসজ্জা, আতশবাজি ও মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বালন। মন্দির প্রাঙ্গণে দুর্গা, শিব ও কালী মন্দিরের পাশাপাশি রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দ, গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু ও লোকনাথ বাবার ভাস্কর্য এবং ফুলের বাগানও রয়েছে। মন্দির কমিটির সভাপতি দিলীপ অধিকারী বলেন, ২৮ বছর ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে এখানে পূজা হয়ে আসছে। উৎসবের পাশাপাশি মানুষের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়াই তাঁদের লক্ষ্য।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পূজামণ্ডপ গুলোতে পুলিশ ও আনসার সদস্যদের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের টহল থাকবে। নিরাপত্তা জোরদারে সিসি ক্যামেরা, আইপি ক্যামেরা, ড্রোন ও পুলিশের বডি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবক ও পর্যাপ্ত পাহারাদার, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও বিসর্জনস্থলে প্রয়োজনীয় আলোর ব্যবস্থাও নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রশাসন ও পূজা উদযাপন কমিটির প্রত্যাশা, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News