বরগুনা জেলা প্রতিনিধি: বরগুনা জেলায় পুলিশ সুপার কুদরত-ই-খুদার নেতৃত্বে মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে পরিচালিত কঠোর অভিযানে শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ডাকাত গ্রেপ্তারসহ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। দক্ষিণ জনপদ বরগুনায় অপরাধ ও মাদকের বিস্তার রোধে বরগুনা জেলা পুলিশ সুপারের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় গত বেশ কিছুদিন ধরে এক নজিরবিহীন সাঁড়াশি অভিযান পরিচালিত হচ্ছে, যার মাধ্যমে সমগ্র অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটেছে। নদীঘেরা এই শান্ত জনপদটিতে বিগত দিনে মাদকের ভয়াল থাবায় যুবসমাজ যখন ধ্বংসের মুখে পতিত হচ্ছিল এবং অপরাধ চক্রের দৌরাত্ম্য চরমে পৌঁছেছিল, ঠিক সেই সংকটময় মুহূর্তে জেলা পুলিশ সুপার কুদরত-ই-খুদা যোগদানের পর থেকেই আমূল বদলে যেতে শুরু করে বরগুনার সার্বিক নিরাপত্তা চিত্র। অপরাধীদের ক্ষমতার বলয় এবং মাদকের বিশাল সিন্ডিকেট গুঁড়িয়ে দিতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয় আপসহীন ও কঠোর অবস্থান, যার ফলে কোনো অপরাধীই এখন আর ছাড় পাচ্ছে না।
এসপি কুদরত-ই-খুদা জয়েন করার পর গত কয়েক মাসে বরগুনার বিভিন্ন প্রান্তে পরিচালিত ১,১১৪টি সফল অভিযানে ২২৬টি মাদক মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং এর সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার অপরাধে মোট ৩৪৬ জন চিহ্নিত অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। একই সাথে উদ্ধার করা হয়েছে মোট ১৬,৪৪৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, প্রায় ২৩ কেজি গাঁজা, ফেনসিডিল, হেরোইন এবং বিপুল পরিমাণ অন্যান্য মাদকদ্রব্য, যা জেলা পুলিশের এই অসামান্য কর্মতৎপরতা ও সাহসিকতারই সাক্ষ্য বহন করে। এই ব্যাপক অভিযানের মূল লক্ষ্য কেবল খুচরা মাদক কারবারিরাই নয়, বরং বরগুনার জনজীবনে ত্রাস সৃষ্টিকারী বড় বড় অপরাধ চক্রের শেকড় উপড়ে ফেলা, যা ইতিমধ্যেই দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। পুলিশের এই সাঁড়াশি অভিযানে কুখ্যাত কালু বাহিনীর প্রধান ও তার প্রধান সহযোগীদের অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যা নয়ন বন্ডের ঘটনার পর স্থানীয় আন্ডারওয়ার্ল্ডের নেটওয়ার্কে মারাত্মক ফাটল ধরিয়েছে। পাশাপাশি, দেশের অন্যতম শীর্ষ ডাকাত চক্রের মূলহোতা নাক বোচা আবদুল্লাহ ডাকাতকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে বরগুনা পুলিশ, যার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় হত্যা, ডাকাতি ও অস্ত্র আইনে অন্তত ২৮টি গুরুতর মামলা বিচারাধীন রয়েছে। শুধু তাই নয়, অপহরণের সাথে জড়িত কুখ্যাত কিডন্যাপার নয়াকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে অপহৃতদের উদ্ধার এবং বিকাশ জালিয়াতি ও ক্যাসিনো কাণ্ডের সাথে জড়িত চক্রের প্রায় এক কোটি টাকার অবৈধ অর্থ উদ্ধার করে বরগুনা জেলা পুলিশ পেশাদারিত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী নুরুসহ অন্যান্য শীর্ষ অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং তাদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর মাদকসম্রাট ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে কিংবা আত্মগোপনে যেতে বাধ্য হয়েছে, যা অপরাধজগতের ভীত নাড়িয়ে দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই কঠোর অবস্থানের ফলে বরগুনার সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী এবং খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষের মাঝে দীর্ঘদিনের শঙ্কা কেটে গিয়ে ফিরে এসেছে দারুণ স্বস্তি। স্থানীয় সাধারণ নাগরিক ও রিকশাচালকরা পুলিশ সুপার কুদরত-ই-খুদার এই সাহসী ও জনবান্ধব উদ্যোগের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়েছন এবং এর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
বরগুনা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, মাদকের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত সেবী, কারবারি, পরিবহনকারী কিংবা তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা প্রভাবশালী রাজনৈতিক বা সামাজিক শক্তি— কাউকেই কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং তাদের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি কঠোরভাবে বলবৎ থাকবে। অপরাধ দমনে ডোপ টেস্টের ব্যবহার এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত বা মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে অপরাধীদের দৌরাত্ম্য ন্যূনতম পর্যায়ে নেমে এসেছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার বিপথগামী তরুণ ও অপরাধীদের সুপথে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হচ্ছে, অন্যথায় প্রচলিত আইনের কঠোরতম প্রয়োগ নিশ্চিত করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বরগুনা জেলা পুলিশের পাশাপাশি বরগুনা জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ চেষ্টায় রয়েছে বরগুনার শিক্ষাঙ্গনে উন্নয়ন এবং তরুণ তরুণীদের বিপথগামী থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য বিভিন্ন খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও তারা ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাং-এর বিরুদ্ধে ---
শুধুমাত্র প্রচলিত আইন প্রয়োগ এবং বলপ্রয়োগের মাধ্যমেই নয়, বরং বরগুনা জেলা পুলিশ মাদকের করাল গ্রাস থেকে নতুন প্রজন্মকে রক্ষা করতে বহুমুখী সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে, যা এই অঞ্চলকে একটি স্থায়ী ও মাদকমুক্ত জনপদে রূপান্তর করতে সাহায্য করবে। আইন প্রয়োগের এই কঠোরতা এবং সামাজিক সচেতনতার যুগপৎ ও দ্বিমুখী লড়াইয়ের ফলে বরগুনার বর্তমান সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি স্থিতিশীল ও নিরাপদ হয়ে উঠেছে। অপরাধের এই শিকড় ভেঙে পড়ার মধ্য দিয়ে বরগুনাবাসী এখন একটি মাদকমুক্ত, আধুনিক ও শান্তির জনপদ পাওয়ার পথে রয়েছে, যেখানে সাধারণ মানুষের চলাচল এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড নির্ভয়ে ও স্বাচ্ছন্দ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
বরগুনা জেলা পুলিশের এই নৈতিক ও পেশাদার দৃঢ়তা কেবল বরগুনা জেলাকেই অপরাধমুক্ত করছে না, বরং দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য এটি একটি অনুসরণীয় মডেল হয়ে উঠেছে, যা আগামী দিনে একটি অপরাধহীন ও প্রগতিশীল সমাজ গঠনে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
দৈনিক শেষকথা Seshkatha News