‎ ‎
ঢাকা আজকের তারিখঃ | বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বরগুনা সদরঘাট মসজিদে দীর্ঘদিনের বিরোধ: হিসাব প্রকাশের দাবি মুসল্লিদের আমতলীতে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত যুবদল নেতার সুস্থতা কামনায় দোয়া ও মিলাদ আমতলীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে রেড ক্রিসেন্টের সচেতনতামূলক কার্যক্রম তালতলীতে সংবাদকর্মীর ফার্মেসিতে তালা: প্রাণনাশের হুমকি ও চাঁদা দাবির অভিযোগ! বেতাগীতে সড়ক ধসে বড় দুর্ঘটনার শঙ্কা পাথরঘাটায় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও সমাবেশ আমতলীতে বাস উল্টে ২৯ যাত্রী আহত, চালক-হেলপার পলাতক অনুমোদিত রুটের বাইরে ও ফিটনেসবিহীন বাস: বরগুনা-নাটোর দুর্ঘটনায় বিআরটিএর পদক্ষেপ কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: স্ত্রীসহ ছয় স্বজনকে হারিয়ে বেঁচে ফিরলেন আশিকুল বেতাগীতে বিষখালী নদীতে অভিযান: ১,৫০০ মিটার অবৈধ জাল জব্দ ও জরিমানা বরগুনায় ডেঙ্গুর প্রকোপ: মশারি ব্যবহারে অনীহা ও স্বাস্থ্য বিভাগের সতর্কতা বরগুনায় ইয়াবা সেবনের দায়ে যুবকের ৩ মাসের কারাদণ্ড ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠনই সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ: চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বরগুনায় ১৬ সাংবাদিককে ৮ লাখ টাকার অনুদানের চেক বিতরণ ২১ অক্টোবর ২০২৬ রোজ বুধবার এর প্রকাশিত দৈনিক শেষকথা পত্রিকা বরগুনার আমতলীতে অসহায় বৃদ্ধার পাশে স্বপ্নছোঁয়া স্বেচ্ছাসেবী যুব সংগঠন তালতলীর টেংরাগিরি ইকোপার্কে ১৪টি হরিণ থেকে কমে এখন মাত্র ৩টি! বরগুনার গৌরীচন্না ইউনিয়নের বিভিন্ন মন্দির পরিদর্শনে জেলা পরিষদের প্রশাসক আমতলীতে জেলেদের ৬ টন চাল আত্মসাতের অভিযোগ! বরগুনা সাইন্স সোসাইটির পাশে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি (এমপি)

আমতলীতে অধ্যক্ষের স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ: মাদ্রাসায় বিশৃঙ্খলা!

  • প্রকাশের সময় : Jul 13, 2026 ইং
আমতলীতে অধ্যক্ষের স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ: মাদ্রাসায় বিশৃঙ্খলা! ছবির ক্যাপশন: আমতলীতে অধ্যক্ষের স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ: মাদ্রাসায় বিশৃঙ্খলা!
ad728
আমতলী প্রতিনিধি: বরগুনার আমতলী বন্দর হোসাইনিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষের স্বাক্ষর জাল করে দুই শিক্ষকের বিএড ও টাইম স্কেলের আবেদন করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটিতে তীব্র অস্থিরতা বিরাজ করছে।

বরগুনার আমতলী বন্দর হোসাইনিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইউনুছ হাওলাদার গত সোমবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি এবং দুইজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে গুরুতর জালিয়াতির অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। অধ্যক্ষের দাবি, তার অনুমতি ও স্বাক্ষর ছাড়াই মাদ্রাসার জীব বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষিকা মোসাঃ আনিশা আক্তার ও আরবি শিক্ষক মোঃ অলী উল্লাহর বিএড ও টাইম স্কেলের আবেদনপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি গাজী কাওসার আহম্মেদ, সংশ্লিষ্ট দুই শিক্ষক এবং অফিস সহকারী মোঃ রেজাউল করিম যোগসাজশে ভুয়া রেজুলেশন, প্রত্যয়নপত্র ও অভিজ্ঞতা সনদ তৈরি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অধ্যক্ষের ভাষ্যমতে, তিনি জালিয়াতিপূর্ণ এসব নথিতে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানালে, তার স্বাক্ষর জাল করে গত জুন মাসে মাদ্রাসা অধিদপ্তরে অনলাইনে আবেদনপত্রগুলো দাখিল করা হয়। গত ১২ জুলাই বিষয়টি অবহিত হওয়ার পর থেকেই অধ্যক্ষকে বিভিন্নভাবে হয়রানি ও হুমকি প্রদান করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। এই ঘটনাটি একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার চরম অবক্ষয়কে নির্দেশ করে, যা তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ দাবি রাখে।

ভুক্তভোগী অধ্যক্ষের অভিযোগের বিপরীতে অভিযুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের বক্তব্য বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে। অফিস সহকারী মোঃ রেজাউল করিম দাবি করেছেন, তিনি কেবল অধ্যক্ষ ও সভাপতির নির্দেশ পালন করেছেন, যার দায়ভার তার ওপর বর্তায় না। অন্যদিকে, অভিযুক্ত শিক্ষিকা মোসাঃ আনিশা আক্তার ও শিক্ষক মোঃ অলী উল্লাহ স্বাক্ষর জালিয়াতির বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, তারা যথাযথ নিয়ম মেনেই অধ্যক্ষ ও ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে কাগজপত্র প্রস্তুত করেছেন এবং অনলাইনে সাবমিট করেছেন। এখানে তারা কোনো ধরনের জালিয়াতির সাথে সম্পৃক্ত নন বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। তবে, অধ্যক্ষের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে কি না—এই প্রশ্নের উত্তরে সংশ্লিষ্টরা একে অপরের দিকে দায় ঠেলে দিচ্ছেন, যা প্রশাসনিক কাজের অস্বচ্ছতাকে স্পষ্ট করে তুলছে। মাদ্রাসার অভ্যন্তরীণ নথিপত্র এবং রেজুলেশনের সত্যতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমকে ব্যাহত করছে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি করেছে।

ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি গাজী কাওসার আহম্মেদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অধ্যক্ষের অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। উল্টো তিনি অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে গুরুতর সব অভিযোগ এনেছেন, যার মধ্যে রয়েছে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, পূর্বের কর্মস্থলের তথ্য গোপন এবং মাদ্রাসার পাঁচ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের বিষয়। সভাপতির দাবি, এসব অনিয়ম নিয়ে তদন্ত শুরু হওয়ায় অধ্যক্ষ নিজের অপরাধ ধামাচাপা দিতেই এখন জালিয়াতির মিথ্যা অভিযোগ তুলছেন। সভাপতির পক্ষ থেকে অধ্যক্ষকে ওএসডি করে রাখার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে চরমে নিয়ে গেছে। দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও একে অপরের চরিত্র হননের রাজনীতি একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশকে চরমভাবে কলুষিত করছে। সরকারি শিক্ষা অধিদপ্তরের উচিত দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত দল গঠন করে এই জালিয়াতির প্রকৃত রহস্য উন্মোচন করা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

নিউজটি আপডেট করেছেন : দৈনিক শেষকথা Seshkatha News

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বরগুনায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে চিত্রাঙ্কন ও বিতর্ক প্রতিয

বরগুনায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে চিত্রাঙ্কন ও বিতর্ক প্রতিয

ad300